হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
প্রতিবেদন: মুস্তাক আহমদ
তাহলে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যত মার্কিন ঘাঁটি আছে, সবগুলি ধ্বংস করা হবে? প্রশ্নটি আজ আর কল্পনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তব আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ এই প্রশ্নের জবাব দিতে ইরান এবার কেবল আবেগ নয়—ক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কৌশল সামনে রেখে কথা বলছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব সাম্প্রতিক সাংবাদিক সম্মেলনে যে বার্তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন—
“আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে, যুদ্ধের ময়দান ইরানের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।”
(১) মার্কিন ঘাঁটি: নিরাপত্তা নয়, দুর্বলতার প্রতীকঃ
— মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এগুলো এখন ক্রমেই কৌশলগত দুর্বলতাতে পরিণত হয়েছে। ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত—প্রায় প্রতিটি ঘাঁটি ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র রেঞ্জের ভেতরে।
২০১৯ সালে সৌদি আরামকোতে হামলা এবং ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানি হত্যার জবাবে আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে দিয়েছে—
ইরান চাইলে মার্কিন ঘাঁটি অক্ষত থাকবে না।
(২) IRGC-এর বার্তার তাৎপর্যঃ
— IRGC প্রধানের বক্তব্য কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ নয়। এটি একটি প্রতিরোধমূলক কূটনৈতিক সতর্কবার্তা (Deterrence Message)। বার্তাটি তিনটি স্তরে কাজ করে—
(ক) আমেরিকার জন্য:=
== ইরান আক্রমণ মানে কেবল তেহরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভ করা।
(খ) মিত্র দেশগুলোর জন্য:=
== যারা নিজেদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি রাখছে, তারা যুদ্ধের আগুন থেকে নিরাপদ থাকবে না।
(গ) জনগণের জন্য:=
== ইরান একা নয়—প্রতিরোধ অক্ষ (Axis of Resistance) প্রস্তুত।
যদি আমেরিকা আক্রমণ না করে…
ইরানের ভাষায়—
আমেরিকা যদি ইরান আক্রমণের ভুল না করে, তাহলে সেটাই হবে আমেরিকার বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
কারণ আজকের ইরান ১৯৮০ সালের ইরান নয়।
এটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর, ড্রোন যুদ্ধে পরীক্ষিত, সাইবার যুদ্ধে সক্ষম এবং সবচেয়ে বড় কথা—
মনস্তাত্ত্বিকভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
আর যদি আক্রমণ করে?
তাহলে দৃশ্যপট হবে ভয়াবহ—
প্রথম ধাক্কা যাবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে
এরপর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জ্বলে উঠবে ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিন, তেলের বাজার, হরমুজ প্রণালী—সবই অস্থিতিশীল হবে
যুদ্ধ আর রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা রূপ নেবে আঞ্চলিক গণপ্রতিরোধে৷
আমেরিকা এতদিন ধরে ভেবেছে—
“আমরা আঘাত করব, বাকিরা সহ্য করবে।”
কিন্তু ইরানই এমন এক দেশ যে সেই সমীকরণ ভেঙে দিয়েছে। আজ প্রশ্ন একটাই—
আমেরিকা কি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে, নাকি আবারও মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে নিজের কফিন নিজেই খুঁড়বে?
আমেরিকা'কে কি মনে করিয়ে দেবো?
২০১৬ সালের কথা ?? ১৯৯৭ সালে সাদ্দাম'কে দিয়ে ইরানে কিছু করতে পারেনি৷ গতসালে ১২-দিনের যুদ্ধে ইজরাঈলকে সামনে এনে যুদ্ধ করে আমেরিকা ইরানের চুল পর্যন্ত ছিড়তে পারেনি, শুধুমাত্র কয়কজনকে শহীদ করছে মাত্র৷
তবে এবার ইরানের সময়ই তার জবাব দেবে।
কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—
ইরান আর কারোর ভয় ভীত নয়৷ তাকে কোন দেশই ভয় দেখিয়ে দমন করতে পারবে না৷
আপনার কমেন্ট