মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারী ২০২৬ - ১২:৫৬
পূর্ণ যুদ্ধপ্রস্তুতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী

ইরানি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও সমন্বয়কারী উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে পূর্ণ যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ মাত্রার অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা জোরদারে তরুণ সেনাসদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ধারক ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর ভাষায়, নিষ্ঠাবান, প্রশিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণরাই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মূল শক্তি ও মেরুদণ্ড।

রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়ারি উল্লেখ করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে তরুণ বাহিনীর কার্যকারিতা ইতিহাসে সুপ্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ’-এ (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) তাদের গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক ভূমিকা এর উজ্জ্বল প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সশস্ত্র বাহিনী সেই একই আদর্শ, চেতনা ও মনোবল ধারণ করে দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে বাহিনীর দক্ষতা ও কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলি সরকারের পক্ষ থেকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে চালানো ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময় সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় প্রতিরোধ বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সক্ষমতাকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে।

তিনি জানান, ওই ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে প্রস্তুতি আরও জোরদারে একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বক্তব্যের উপসংহারে রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেন, বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ মাত্রার যুদ্ধপ্রস্তুতিতে রয়েছে। সেনাসদস্যদের দৃঢ় মনোবল, যুদ্ধস্পৃহা ও অটল বিশ্বাসের পাশাপাশি জনগণের প্রত্যক্ষ ও শক্তিশালী সমর্থনের কারণে এই প্রস্তুতি একটি অস্বীকারযোগ্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা ও উসকানিমূলক আগ্রাসন চালায়। এর মধ্য দিয়ে ১২ দিনের যুদ্ধের সূচনা হয়, যাতে অন্তত ১,০৬৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ডের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা এবং পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।

অবশেষে, ২৪ জুন ইরান ইসরাইলি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সফল প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে আগ্রাসন বন্ধ করতে সক্ষম হয়।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha