বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৫:১০
শবেবরাত 'ইবাদতের স্থান' ইমামের মর্যাদার গভীরতা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করুন

হাওজা / হজরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন: হজরত ওলিয়ে আসর (আজ.)-এর জন্মবার্ষিকার মতো অনুষ্ঠানসমূহ যথাযথভাবে পালন করতে হবে; আমাদের এই ঈদকে সত্যিকারের ইবাদতের স্থান হিসেবে গণ্য করা উচিত, যদিও এই সময়ে আনন্দ, উল্লাস ও কবিতা আবৃত্তি করা প্রশংসনীয়, কিন্তু ইমামের মর্যাদার গভীরতা সম্পর্কেও জ্ঞানার্জন করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হজরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি তার ফিকহের ক্লাসে হজরত ওলিয়ে আসর (আজ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বলেন: হজরত ওলিয়ে আসর (আজ.)-এর জন্মবার্ষিকার মতো অনুষ্ঠানসমূহ যথাযথভাবে পালন করতে হবে; আমাদের এই ঈদকে সত্যিকারের ইবাদতের স্থান হিসেবে গণ্য করা উচিত, যদিও এই সময়ে আনন্দ, উল্লাস ও কবিতা আবৃত্তি করা প্রশংসনীয়, কিন্তু ইমামের মর্যাদার গভীরতা সম্পর্কেও জ্ঞানার্জন করতে হবে, যিনি প্রতিটি অবস্থায় থাকেন এবং যাকে আমরা প্রতিটি অবস্থায় সালাম প্রেরণ করি: “আসসালামু আলাইকা হীনা তাকুম, আসসালামু আলাইকা হীনা তাক’উদ, আসসালামু আলাইকা হীনা তাকরা’উ ওয়া তুবাইয়্যিন...”

তিনি আরও বলেন, ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতায় ‘আক্ল’ (বুদ্ধি)-এর কেন্দ্রীয় ভূমিকার উপর জোর দিয়ে বলেন: আল্লামা কুলাইনি (রহ.) তার ‘কাফি’ কিতাবের ভূমিকায় লিখেছেন এবং ভূমিকার শেষ লাইনে বলেছেন যে, একটি জাতির সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হল তার বুদ্ধি; “ইযা কানাল আকুলু হুয়াল কুতুবাল্লাযী আলাইহিল মাদার, ওয়া বিহি ইউহতাজ্জু, ওয়া লাহুস সাওয়াব, ওয়া আলাইহিল ইকাব।” এই অর্ধ লাইনটিই বলে দেয় যে ইসলামী সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হল বোধশক্তি।

হজরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি নাজাফ হাওযার ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবস্থাপনার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন: নাজাফ একটি শহর হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগেই হাওযায়ে ইলমিয়া ছিল। ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর ছাত্র আবু হামযা সুমালি নিয়মিত কুফার বাইরে যাতায়াত করতেন, পরে জানা যায় যে তিনি ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারের কাছে যেতেন এবং সেখানে নিজের ছাত্রদের নিয়ে অধ্যয়ন ও শিক্ষাদান করতেন। ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর সময় থেকেই আবু হামযা সামালির মতো ছাত্রদের মাধ্যমে এই অঞ্চল বিশেষ ছাত্রদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের স্থান ছিল। ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর যুগে এবং ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রকাশিত হলে বোঝা যায় কেন ইমাম সাজ্জাদ (আ.) তার ছাত্র আবু হামযা সামালিকে সেখানে অধ্যয়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন!

তিনি আল্লামা বাহরুল উলুম (রহ.)-এর স্মৃতিচারণ করে বলেন, সাইয়েদ মুরতাজা ও সাইয়েদ রাযির মতো ব্যক্তিত্বদের আর্থিক ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নাজাফ হাওজার সমৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি যোগ করেন: হাওজায়ে ইলমিয়াকে নার্সারির মতো কাজ করা উচিত নয়, বরং মেধাবী তালেবায়ে ইলমকে চিহ্নিত করে তাদের সহায়তা করা উচিত, যাতে হাওজা থেকে সাহেবে জাওয়াহের এবং শেখ আনসারীর মতো মহান শিক্ষক তৈরি হতে পারে। সাইয়েদ মূর্তাজা ও সাইয়েদ রাযি যা করেছিলেন তা ছিল সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মেধা চিহ্নিতকরণের উজ্জ্বল উদাহরণ, যার ফলশ্রুতিতে শেখ তুসির মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছেন যিনি চারটি প্রধান কিতাবের মধ্যে দুটির লেখক। এই জ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা সবার ভাগ্যে জোটে না।

তিনি আহলে বাইত (আ.)-এর ওসিলার মর্যাদার উপর জোর দিয়ে বলেন: সব জ্ঞান অর্জন বা পড়াশোনার মাধ্যমে লাভ করা যায় না। মু‘জিজা, ইমামত ও এসমত চিন্তার মাধ্যমে লাভ করা যায় না এবং সাধারণ পড়াশোনার মাধ্যমে কেউ তা অর্জন করতে পারে না। তাই ইমামের জ্ঞান পড়াশোনা বা গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত নয়, বরং এটি একটি ঐশ্বরিক সত্য যা সাধারণ জ্ঞানার্জনের পথের বাইরে।

শেষে, হজরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি ধর্মীয় স্কলার ও নেতাদের একাডেমিক রচনার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত জীবনাচরণের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে সমাজ, নেতৃবৃন্দ ও জনগণ সবসময় হজরত ওলিয়ে আসর (আজ.)-এর দোয়ার আওতায় থাকবেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha