শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৮:২০
হিজাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিপাকে মামদানি 

হিজাব ইসলামী সংস্কৃতি,কৃষ্টি ও সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য আবশ্যকীয় জরুরী অংশ ও উপাদান।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, যুগান্তর পত্রিকার এ সংবাদ সংক্রান্ত কিছু কথা:
একজন বিশ্বাসী মুসলিমকে হিজাবের পক্ষে অবস্থান নিতেই হবে। (অথচ নিউ ইয়র্কের নব নির্বাচিত মেয়র যাহরান মামদানী তো সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ)। কারণ হিজাব ইসলামী শরিয়তের অপরিহার্য জরুরী বিধান ও বিষয়াদির (ضروریات الدین) অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলাম ও মুসলিম নারীর আদর্শিক, ঈমানী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক  স্বরূপেরও পরিচায়ক ও বহি:প্রকাশ। হিজাব ইসলামী সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অত্যাবশ্যকীয় জরুরী অংশ ও উপাদান। মুসলিম নারীর মুসলমানিত্বের মূর্ত প্রতীক এবং এটা (এই হিজাব) তার ঈমানী, দ্বীনী (ধর্মীয়), শরয়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার। এটা (হিজাব) নারীর নিরাপত্তার জামানত। গৃহের বাইরে কর্মক্ষেত্রে মুসলিম নারী হিজাবের বিধান পালন করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।

হিজাব

হিজাব পরিহিত হয়ে মুসলিম নারী প্রশাসন ও রাজনীতিতে এমনকি ক্রীড়া অঙ্গনেও স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ করতে ও উপস্থিত থাকতে পারে। মোট কথা হিজাব মুসলিম নারী ও মেয়েদেরকে ঘরের বাইরে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নিরাপদে উপস্থিত হওয়া ও কর্মতৎপরতা চালানোর সুন্দর সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করে দেয়। এতে নারীর সুস্থ আত্মিক ও মানসিক বিকাশ এবং  তার সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়। তাই ইসলামী হিজাব নারীর সার্বিক বিকাশের পথে বাধা, অন্তরায় ও সীমাবদ্ধতা আরোপ তো নয়ই বরং তাঁর সার্বিক বিকাশ, উন্নতি ও উন্নয়ন এবং তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য সহায়ক ও অপরিহার্য।কারণ, হিজাব নারীকে অবাঞ্ছিত অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন উৎপীড়ন ও নিপীড়ন, মানসিক ও শারীরিক ট্রমা (আঘাত) এবং ঘাত-প্রতিঘাত থেকে হেফাজত করে এবং তার ব্যক্তিত্ব, মান-সম্মান,সম্ভ্রম ও মর্যাদার সুরক্ষা হচ্ছে হিজাব।হিজাবের মাধ্যমে সার্বিক ও সর্বসাধারণ ভাবে এবং প্রকাশ্যে সমাজে চারিত্রিক নৈতিকতা ও শালীনতা সংরক্ষিত হয়। অবাধ অবৈধ যৌনতা, যিনা-ব্যভিচার এবং জন্মগত অপবিত্রতা (জারজত্ব) এবং এতদসংক্রান্ত বহু অপরাধ, দুর্নীতি, দুষ্কর্ম ও পাপ রোধ করে ইসলামী হিজাব বিধান। মদ, বিপথগামী পথভ্রষ্ট নর-নারী এবং (অতিরিক্ত) মাংস ভক্ষণ (ভুরি-ভোজন যার এক উল্লেখযোগ্য অংশই হচ্ছে মাংস) সকল অনিষ্ট ও অমঙ্গলের উৎস।কারণ মদ হিতাহিত জ্ঞান ও বিবেক-বোধের বিলুপ্ত কারী। অসৎ, পথভ্রষ্ট, বিপথগামী চরিত্রহীন নর-নারীর দ্বারাই সব ধরনের অপকর্ম, অপরাধ, দুর্নীতি, পাপ ও অন্যায় সাধিত হয় এবং অতিরিক্ত মাংস ভক্ষণ ও ভুরি-ভোজন রিপু ও প্রবৃত্তির কামনা বাসনার দাসত্ব থেকে উৎসারিত। আর অতিরিক্ত মাংস ভক্ষণে হৃদয় হিংস্র, সহিংস, কঠিন ও পাষাণ হয়ে যায় এবং তখন যে কোনো ধরনের সহিংসতা ও হিংস্রতা প্রদর্শন করা থেকে অতিরিক্ত মাংস ভোজী ব্যক্তিরা পিছপা হয় না যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে পশ্চিমরা বিশেষ করে মার্কিনীরা। এরা মাত্রাতিরিক্ত মাংস ভোজন করে বলেই খুবই হিংস্র ও রক্তপিপাসু এবং গত তিন চার শতাব্দী ধরে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি নিরীহ মযলুম মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় সজ্ঞানে ইচ্ছা প্রণোদিত হয়ে হত্যা করেছে এবং এখনও পশ্চিমাদের এই হত্যাকাণ্ড, হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা, প্রজন্ম হত্যা এবং জাতিগত নিধন ও শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত আছে যার বর্তমান নমুনা, প্রমাণ ও প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে গাযায় পশ্চিমা দেশগুলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদ, সাহায্য, সমর্থন, সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা ও তত্ত্বাবধানে ইসরাইল গত দু'বছরে ( ৭-১০-২০২৩ থেকে ৭-১০-২০২৫) ধরে গাযায় আক্রমণ ও আগ্রাসন চালিয়ে ৭০ হাজারের অধিক নিরীহ জনগণকে হত্যা করেছে যাদের অধিকাংশই শিশু ও নারী!!! এবং এই একই সময়ে লেবাননে ৪-৫ হাজার,ইয়ামানে ২০০০ এর অধিক এবং ইরানে সহস্রাধিক জনগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রত্যক্ষ আগ্রাসন ও নির্বিচারে বোমা বর্ষণে শহীদ হয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়ামান, লেবানন ও লিবিয়ায় মার্কিন ও পশ্চিমা আগ্রাসন ও আক্রমণে মিলিয়ন মিলিয়ন নিরীহ জনগণ শাহাদাত বরণ করেছেন।তাহলে দেখা যাচ্ছে এবং প্রমাণিত হয়েছে যে মদ, চরিত্রহীনা নারী (অর্থাৎ হিজাব বর্জন, নরনারীর অবাধ মেলামেশা ও সমাজে ফাহেশা বা যিনা-ব্যভিচারের প্রসার) এবং অতিরিক্ত মাংস ভক্ষণ মানব জাতিকে চরম দুর্দশায় আপতিত করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোয় হিজাব (যা হচ্ছে শালীন ও মার্জিত পোশাক-পরিচ্ছদ এবং শালীনতা ও ভদ্রতা এমনকি ইসলামী হিজাব সদৃশ হিজাব তা মাত্র ১০০ বছর আগেও ও সব পশ্চিমা দেশে প্রচলিত ছিল এবং তা) বর্জিত হলে গোটা ইউরোপ ও আমেরিকার অধিবাসীদের ৪২% থেকে ৪৫% বর্তমানে হারামজাদা (জারজ বাস্টার্ড) এবং কোনো কোনো ইউরোপীয় দেশ যেমন: ফ্রান্সে জনগণের ৫০% এর অধিক হারামজাদা (বাস্টার্ড ও জারজ) অর্থাৎ বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অবাধ অবৈধ যৌনতা, মেলামেশা এবং সম্পর্কের কারণে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন

ট্রমা, নিপীড়ন ও নিগ্রহ সহ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন ও সব দেশ। হারামজাদা জনসংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই ও সব ইউরোপীয় ও পশ্চিমা দেশগুলোয় পিতৃ পরিচয় মুখ্য নয় বরং মাতৃ পরিচয়ের মাধ্যমেও সন্তানের পরিচয় ও পরিচিতি নির্ধারিত হয়। তার মানে এ সব সন্তান বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে (যেমন:লিভ টুগেদার প্রথায় এবং অন্যান্য অবৈধ যৌন সম্পর্কের মধ্য দিয়ে) জন্মগ্রহণ কারী। স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও লাইফ পার্টনার শব্দটি খুব প্রসার লাভ করেছে
পশ্চিমা দেশগুলোয়। এই লিভ টুগেদার ও পার্টনার, উচ্ছৃঙ্খল অবাধ যৌনতা, যিনা-ব্যভিচার, নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশা এ সব কিছুই পাশ্চাত্যে হিজাব বর্জনের কারণেই হচ্ছে। যখন পশ্চিমা দেশগুলোয় খ্রীষ্ট ধর্মের প্রভাবে প্রায় শতাধিক বছর আগে হিজাবের প্রসার ও প্রচলন ছিল তখন ও সব দেশে হারামজাদাদের (জারজ-বাস্টার্ডদের) সংখ্যা জনসংখ্যার ৫% এর নীচে ছিল। কিন্তু বিগত এই ১০০ বছরে হিজাব বর্জন, উচ্ছেদ ও বিলুপ্তি করনের পর হারামজাদাদের সংখ্যা ৫% এর কম সংখ্যক থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪৫% এ দাঁড়িয়েছে এবং এটা এখানেই থেমে থাকবে না বরং সামনের দশক গুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কয়েক দশকের মধ্যে ৯০%কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে!অর্থাৎ অচিরেই পশ্চিমা দেশগুলোর প্রায় গোটা জনসংখ্যাই প্রত্যক্ষ হারামযাদায় পরিণত হবে!!! পাশ্চাত্যের প্রাণকেন্দ্র নিউ ইয়র্কে নবনিযুক্ত মুসলিম মেয়র যাহরান মামদানী সংগত কারণেই হিজাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যার জন্য তাঁকে তিরস্কার করা একান্ত অনুচিত বরং তার এ অবস্থান প্রশংসা যোগ্য। আর এখানে একটা বিষয় প্রণিধানযোগ্য এবং তা হচ্ছে যে মেয়র মামদানী কিন্তু নিউ ইয়র্কে এমনকি মুসলিম নারীদের ওপরেও হিজাব বাধ্যতামূলক করেন নি। ইরানের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনে হিজাব বাধ্যতামূলক। তাই ইরানে কোনো ইরানী নারী হিজাব অমান্য করতে পারে না এবং রাষ্ট্রীয় যে কোনো আইন অমান্য করলে সকল দেশই অমান্যকারীকে সাজা ও দণ্ড দেয়। তাই রাষ্ট্রীয় হিজাব আইন অমান্য ও লংঘনের কারণে লংঘন ও অমান্যকারী যদি দণ্ড প্রাপ্ত হয় তাহলে সেজন্য সরকার ও রাষ্ট্রের নিন্দা করা যাবে না। বরং আইন লংঘনকারী নিন্দিত হবে রাষ্ট্রীয় আইন লংঘন ও অমান্য করার জন্য।আর হিজাবের ধর্মীয় ও শরয়ী ভিত্তি তো আছেই।ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র ও রাষ্ট্র এবং এ কারণে ইরানে ইসলামী শরয়ী আইন ও বিধান রাষ্ট্রীয় ভাবে বলবৎ ও জারি করাও অপরিহার্য ও ফরয! সুতরাং ইসলামী শরয়ী আইন যেমন হিজাব আইন বলবৎ ও প্রয়োগ এবং তা উপেক্ষা, অগ্রাহ্য ও অমান্য করলে অমান্য কারীকে এবং ইসলামী আইন ও হিজাবের প্রকাশ্যে বিরোধিতা, গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দানের জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে কোনো ভাবেই দোষারোপ ও নিন্দা করা যাবে না।

ইসলামি চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha