রবিবার ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১০:২৫
যে ধরনের মানুষের সন্তানেরা নামাজি হয় না!

ধর্মপরায়ণ পরিবারগুলোর একটি বড় উদ্বেগ হলো—সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন তারা নামাজ ও ইবাদতে অভ্যস্ত হয় এবং দ্বীনের পথে চলতে শেখে। অথচ এক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি বাবা–মাকেই নিতে হয়। নিজেদের আগে ধর্মীয় বিষয়ে যত্নশীল ও অনুশীলনকারী হতে হবে, যাতে সন্তানরা তাদের থেকেই আদর্শ গ্রহণ করতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শহীদ মুর্তজা মুতাহহারী (রহ.) তাঁর গ্রন্থ আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা-তে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর বক্তব্য তুলে ধরেছেন, যা সন্তানদের নামাজি হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

তিনি বলেন— যেসব মানুষ নিজেরাই নামাজকে অবহেলা করে, অর্থাৎ নামাজকে ছোট করে দেখে—
যেমন:
• যাদের ফজরের নামাজ সূর্য ওঠার কাছাকাছি সময়ে আদায় হয়,
• যোহর ও আসরের নামাজ সূর্যাস্তের সময় পড়া হয়,
• মাগরিব ও এশার নামাজ রাত অনেক গড়িয়ে গেলে আদায় করা হয়,
• আর নামাজ পড়া হয় তাড়াহুড়া ও অমনোযোগের সঙ্গে—
অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের মানুষের সন্তানরা একেবারেই নামাজি হয় না।

আপনি যদি সত্যিই চান নিজে নামাজি হতে এবং আপনার সন্তানরাও নামাজি হয়ে উঠুক, তাহলে প্রথমেই নামাজকে যথাযথ সম্মান দিতে শিখুন।

আমি বলছি না জোরে বা প্রদর্শনের জন্য নামাজ পড়তে হবে; নামাজ পড়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—নামাজকে সম্মান করা।

প্রথমত, নিজের জন্য ঘরে একটি নির্দিষ্ট নামাজের স্থান নির্ধারণ করুন—এটি মুস্তাহাবও বটে। অর্থাৎ ঘরের একটি নির্দিষ্ট জায়গাকে নামাজের জন্য বেছে নিন এবং সেটিকে নিজের জন্য একটি ছোট মেহরাবের মতো করে নিন।

যদি সম্ভব হয়, যেমন রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর একটি নির্দিষ্ট নামাজের স্থান ছিল, তেমনি একটি কক্ষকে নামাজের জন্য নির্ধারণ করুন। আর যদি আলাদা কক্ষ না থাকে, তাহলে অন্তত একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে নিন।

নামাজের স্থানে একটি পরিষ্কার জায়নামাজ রাখুন। দাঁত মিসওয়াক বা ব্রাশ করে নিন এবং জিকির করার জন্য একটি তাসবিহ রাখুন। অজু করার সময়ও অযথা তাড়াহুড়া করবেন না; বরং শান্ত ও মনোযোগের সঙ্গে অজু করুন।

সূত্র: মুর্তজা মুতাহহারী, আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা, পৃষ্ঠা ৮৯

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha