تیتر سه زیرسرویس
-
ভালো উপদেশ কখনো কখনো শিশুদের লালন-পালনে কেন কার্যকর হয় না?
হাওজা / যেসব পিতা-মাতা নিজের আচরণে মহানুভবতার নৈতিকতা মেনে চলেন না, তারা নির্দেশনা ও উপদেশের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে এই নৈতিকতা স্থানান্তর করতে পারেন না। লালন-পালনে কাজের প্রভাব কথার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে নিজে মহানুভব আচরণ করে না, সে মহানুভবতা শিক্ষাও দিতে পারে না; কারণ কথার কার্যকারিতার রহস্য লুকিয়ে থাকে চরিত্রের মধ্যে, এবং কাজের ভাষা কথার ভাষার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট ও কার্যকরী।
-
সন্তান যদি বাবাকে ভালো না বাসে, তবে বাবার দ্বীনকেও ভালোবাসবে না
একজন সন্তানের জীবনে বাবার ভূমিকা কেবল কর্তৃত্ব বা ভীতি প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষণ ও আদর্শ গড়ে তোলার জন্য বাবাকে হতে হবে সন্তানের প্রথম বন্ধু—যার সঙ্গে সে খোলামেলা কথা বলতে পারে, খেলাধুলা করতে পারে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার পরামর্শ নিতে পারে। যদি সন্তান বাবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে না পারে, তবে বাবার দ্বীন বা নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহও জন্মাবে না।
-
যে ধরনের মানুষের সন্তানেরা নামাজি হয় না!
ধর্মপরায়ণ পরিবারগুলোর একটি বড় উদ্বেগ হলো—সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন তারা নামাজ ও ইবাদতে অভ্যস্ত হয় এবং দ্বীনের পথে চলতে শেখে। অথচ এক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি বাবা–মাকেই নিতে হয়। নিজেদের আগে ধর্মীয় বিষয়ে যত্নশীল ও অনুশীলনকারী হতে হবে, যাতে সন্তানরা তাদের থেকেই আদর্শ গ্রহণ করতে পারে।
-
কীভাবে সৃজনশীল শিশু গড়ে তোলা যায়?
যেসব শিশু নতুন ও উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পায়, তারাই সৃজনশীল শিশু। সৃজনশীলতা বুদ্ধিমত্তা থেকে আলাদা; সৃজনশীল শিশুরা অস্বাভাবিক সমাধান খুঁজে পায়, ভুল করতে ভয় পায় না এবং নতুন মতামত প্রকাশ করতে আনন্দ পায়।
-
পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিম নারীদের জন্য হিজাব কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হাওজা / পরিবার ও নারী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সদস্য এবং অনুষদ সদস্য বলেছেন: একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল যে কেন হিজাব পশ্চিমে বসবাসকারী মুসলিম নারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণা অনুসারে, পশ্চিমা মুসলিম নারীদের জন্য হিজাব শুধুমাত্র একটি পোশাক এবং ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং এটি তাদের পরিচয়ের প্রতীক, যা সমাজ থেকে আলাদা পথে চলে এবং এর বিপরীতে দাঁড়ায়।
-
পরিবারগুলো কীভাবে কিশোরদের পরিচয় সংকট প্রতিরোধ করতে পারে?
কিশোরদের পরিচয় সংকট—বিশেষত সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সংকট— বর্তমান সময়ের একটি গুরুতর সামাজিক বাস্তবতা। এই সংকটের পেছনে রয়েছে সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা, প্রজন্মগত দ্বন্দ্ব, দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন এবং সামাজিক শূন্যতা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের পুনর্মূল্যায়ন, প্রজন্মের মধ্যে কার্যকর ও ইতিবাচক সংলাপ, বাস্তবতাকে অনুধাবনের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের সামনে স্থায়ী ও মূল্যবোধভিত্তিক আদর্শ উপস্থাপন।
-
সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বর্ণসূত্র: বিশ্লেষণ, বুদ্ধি ও অনুভূতির সমন্বয়ে নির্বাচন
সিদ্ধান্ত নেওয়া জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সামনে আসে এবং কখনো কখনো এর প্রভাব আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে পারে। ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ মানে শুধু যুক্তি বা অনুভূতিতে নির্ভর করা নয়; বরং বিশ্লেষণ, তথ্যসংগ্রহ ও নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বুদ্ধিমানের মতো নির্বাচন করা।
-
নামাজের জন্য সন্তানের জাগিয়ে তোলা— কার্যকর, কোমল ও স্থায়ী উপায়
নামাজে নিয়মিত হওয়া যখন একটি অভীষ্ট, তখন অনেক পরিবারই বিশেষ করে নবযৌবনা বা বালিগ হওয়া মেয়েদের ক্ষেত্রে ঘুমের কারণে বেগ পেতে পারে— দুপুরে দীর্ঘ ঘুম, ফজরের সময় উঠতে দুর্ভোগ ইত্যাদি।
-
শিশুদের ঘুমজনিত সমস্যার কারণ ও প্রতিকার
অনিদ্রা কেবল শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে এবং নানাবিধ শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয় না; বরং এটি মানসিক ও আবেগগত সমস্যাও সৃষ্টি করে—যেমন উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং জীবনের প্রতি অসন্তুষ্টি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাধি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
-
পরিচয়, কথোপকথন ও বোঝাপড়া: দাম্পত্যজীবনে মনোমালিন্য কাটানোর চাবিকাঠি
পরিচয়, কথোপকথন আর পারস্পরিক বোঝাপড়া—এই তিনটি জাদুকরী চাবিকাঠিই যেন দাম্পত্য জীবনের তালা খুলে দেয়। খোরাসান হাওজায়ে ইলমিয়ার পরিবার পরামর্শ কেন্দ্রের বিশিষ্ট কনসালট্যান্ট মাহবুবে দাশ্তী বলছেন, ছোট্ট একটি ভুল বোঝাবুঝি, একটি কথা না বলে চেপে রাখা, অথবা প্রিয়জনের হৃদয়ের গোপন চাহিদা না বোঝা—এই সাধারণ ভুলগুলোই একদিন ঝড়ের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় সুখের সংসারকে। কিন্তু যদি সময় থাকতে যোগাযোগের সোনার সেতু বানানো যায়, তবে অনেক ঝড়ই আসার আগেই থেমে যায়।