হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ফরাসী ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ এক সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ মালিকে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দশ দেশের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
Mali is among the ten poorest nations of the world, is one of the 37 Heavily Indebted Poor Countries, and is a major recipient of foreign aid from many sources ... )
মালিতে প্রচুর স্বর্ণ খনি থাকলেও ফরাসীরা শত শত টন সোনা শুধুমাত্র মালি থেকেই নিয়ে গেছে। মালি ও অন্যান্য আফ্রিকীয় দেশ থেকে এভাবে সোনা লুণ্ঠন করে নিয়ে ফ্রান্স ২৩০০ টনের অধিক সোনার রিজার্ভ গড়েছে। অথচ বহু স্বর্ণের খনি অধ্যুষিত মালির স্বর্ণের রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ মাত্র ০ টন। স্বর্ণ খনি অধ্যুষিত অন্যান্য আফ্রিকীয় দেশেরও স্বর্ণের রিজার্ভ ০ টন!
এই হল ফ্রান্সের উপনিবেশবাদী স্বভাব ও চরিত্র যার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দুর্বল দেশগুলোকে দখল করে তাদের সকল সহায় সম্পদ লুণ্ঠন। আর লুণ্ঠন ও দস্যুতার এ চরিত্রটা শুধু ফ্রান্সের একার নয় বরং সকল ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোরও এই একই স্বভাব ও চরিত্র।
ইউরোপীয় জাতিগুলো যেখানেই গেছে সেখানকার সব কিছু লুটপাট এবং সেখানে রক্ত গঙ্গা প্রবাহিত করেছে। ইউরোপীয়দের আসল স্বরূপ হচ্ছে তথাকথিত সভ্য - ভদ্র বেশভূষার আড়ালে বিশাল তীক্ষ্ণ ধারাল দাঁতের অধিকারী রক্ত পিপাসু নেকড়ে এবং রক্ত চোষা বাদুর বা ড্রাকুলা চরিত্র (Vampire or Dracula character)। নাইজারেও ফরাসী উপনিবেশবাদীরা এই একই জঘন্য কাজ করেছে।
নাইজার থেকে গত বছর (২০২৩) পর্যন্ত ফ্রান্স এক রকম মাগনায় (নামকে ওয়াস্তে মূল্যে) হাজার হাজার টন ইউরেনিয়াম নিয়ে গেছে। নাইজারের ইউরেনিয়াম জাতীয় ফরাসী বিদ্যুত চাহিদার তিন ভাগের একভাগ মেটাত। এ ভাবে দশকের পর দশক ধরে ফরাসীরা অন্যান্য খনিজ সম্পদ সহ ইউরেনিয়াম নিয়ে গিয়ে নাইজারকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রাখলে দেশটির সামরিক জান্তা গত বছর (২০২৩) তথাকথিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত ফ্রান্সের পদাশ্রিত রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করে নাইজার থেকে ফ্রান্সের ইউরেনিয়াম লুণ্ঠন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে নিজেদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হলে ম্যাখখাঁ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নাইজারের সামরিক জান্তার হাতে গণতন্ত্র নিষ্পেষিত হচ্ছে বলে পশ্চিমা সরকার ও সংবাদ মাধ্যম সমূহ মায়া কান্না জুড়ে দিয়েছিল!
এই হল পাশ্চাত্য ও তাদের তথাকথিত গণতন্ত্র (এটাকে গণযন্ত্রণাতন্ত্র বলাই শ্রেয়)। আসলে যারা দেশে দেশে এ ধরণের তল্পিবাহক তাবেদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে অথবা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশে দেশে পশ্চিমা স্বার্থ বিরোধী গণতান্ত্রিক সরকার সমূহের পতন ঘটায়, বিভিন্ন দেশে (ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া লেবাননে) আগ্রাসন চালিয়ে গণহত্যা যজ্ঞের অবতারণা এবং মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে ও করছে, নিজেদের দেশে (মাযুরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া) আদিবাসীদের মেরেকেটে সাবার করে দিয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নির্বাচন হচ্ছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং পুঁজিপতিদের টাকার হোলিখেলা (অর্থাৎ পুঁজিপতিরা টাকার ভিক্ষা দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচিত করে সংসদে পাঠায়, প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে এবং সাংসদ, প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হচ্ছে পুঁজিপতিদের আজ্ঞাবহ ভৃত্য সদৃশ্য যারা জন স্বার্থের চাইতে পুঁজিপতিদের গোষ্ঠীগত স্বার্থই দেখে সবচেয়ে বেশি।)
অতএব পশ্চিমা দেশগুলো কি আসলেই গণতান্ত্রিক? শুধু মাত্র গণতন্ত্রের ফাঁকা বুলি আওরালে কি গণতন্ত্র কায়েম হয়ে যাবে? এ সব সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা দেশগুলোকে ভালো করে চেনার সময় এসে গেছে।
পশ্চিমারা যে মানবতার দুশমন তা মালী ও নাইজারেরর মতো ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ কবলিত দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-নিরাপত্তা মূলক অবস্থা থেকে স্পষ্ট প্রতিভাত হয়। তাই পশ্চিমাদের নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে না পারলে প্রকৃত মুক্তি নেই।
আর ১৯৭৯ সালের ১১ফেব্রুয়ারি ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বে ইরানে মহান ইসলামী বিপ্লব বিজয় ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের নেতৃত্বে বিশ্ব লুটেরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার বশংবদ প্রতিভু ইসরাইলের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ ৪৫ বছরের অক্লান্ত প্রতিরোধ সংগ্রাম আজ ফিলিস্তীন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, বাহরাইন, ইয়ামান, আফগানিস্তানসহ মুসলিম বিশ্ব ও সমগ্র বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) ছড়িয়ে পড়েছে এবং পশ্চিমা পরাশক্তি বিশেষ করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরা (যুক্তরাজ্য)কে জীর্ণশীর্ণ ও পর্যদুস্ত করে দিচ্ছে।
এই প্রতিরোধ সংগ্রাম থেকে অনুপ্রাণিত ফিলিস্তীনী মুক্তি যোদ্ধা ও মুজাহিদরা ৪ মাসাধিককাল যাবৎ সফল প্রতিরোধ ও মুক্তি যুদ্ধ ও জিহাদ অব্যাহত রেখে পশ্চিমাদের বিশেষ করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরার (যুক্তরাজ্য) পূর্ণ সমর্থন ও সাহায্য প্রাপ্ত দখলদার হানাদার সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলকে গাযায় ধরাশায়ী, শ্রান্ত, ক্লান্ত, জীর্ণশীর্ণ করে দিচ্ছে যা এই অপরাধী, আগ্রাসী, বর্ণবাদী, যালেম রাষ্ট্রটিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে ।
এখন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের এই বিপ্লবী প্রতিরোধ সংগ্রামের চেতনা জাতিসমূহের মাঝে সম্প্রসারিত ও বিকশিত হয়ে আলোকিত নতুন ভবিষ্যতের শুভ বার্তা দিচ্ছে। এই মহান ইসলামী বিপ্লব বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের মযলূম মুস্তায'আফ জাতিসমূহ মুক্তি পাক এবং অন্যায় ও শোষণের চির অবসান হোক-এটাই একান্ত কাম্য।
ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মোহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট