শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২২:৫৮
৪৭ তম ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকী

বিশ্বের সকল মুসলমানের উচিত এবং তাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে এই বীর সাহসী অশীতিপর বৃদ্ধ মহান নেতা ও ইসলামী বিপ্লবী ইরানকে সর্বাত্মক ভাবে সমর্থন, সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪৭ তম ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের ১৪০০ টি শহর এবং হাজার হাজার গ্রামে মিলিয়ন মিলিয়ন জনতার মিছিল ও শোভাযাত্রা: দুপুর ২টার খবর
দীর্ঘ ৪৭ বছর গত হয়ে যাওয়ার পরও ২২বাহমান (১১ ফৈব্রুয়ারি) ইসলামী বিপ্লব বিজয় বার্ষিকী এখনও মিলিয়ন মিলিয়ন (কোটি কোটি) জনতার অংশগ্রহণে সতেজ, উদ্দীপ্ত, বিপ্লবী ও ঈমানী উদ্দীপনায় ভরপুর, প্রাণবন্ত ও অম্লান।

ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকী

ইসলামী বিপ্লব ও প্রজাতন্ত্র বিরোধী পশ্চিমাদের বিষবাষ্প পূর্ণ ব্যাপক অপপ্রচার ও প্রচারণা সত্ত্বেও পুরোনো হয়ে যায় নি এ বিপ্লবী উদ্দীপনা বরং সমগ্র ইরান জুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের এমন বিশাল মিছিল ও শোভাযাত্রা পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল ও অভূতপূর্ব।

আর এ বছর ইসলামী বিপ্লব বিজয় বার্ষিকীর মিছিল ও শোভাযাত্রা পূর্বের বছর গুলোর তুলনায় ছিল আরও ব্যাপক ও বিশাল এবং মিছিল ও শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার ঘন্টা দেড়েক আগে থেকেই লোকজনের প্রচণ্ড ভীড় ও সমাগম হয়েছিল।সব সময়কার মতো এ বছরও সমাজের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপ্লব বিজয় বার্ষিকীর মিছিল ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম খামেনেয়ী ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকীর মিছিলে এই অসাধারণ অভূতপূর্ব উপস্থিতির জন্য ইরানী জাতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

গতকালের এ মহা ঘটনা কাছ থেকে না দেখলে উপলব্ধি ও বিশ্বাস করা খুবই কঠিন।

গত জানুয়ারিতে পশ্চিমাদের বিশেষ করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্র মূলক উস্কানি ও প্ররোচনায় এবং প্রত্যক্ষ মদদে গোলযোগ ও ফিতনার অগ্নি নির্বাপণের জন্য একমাস পূর্বেও ২২ দেই (১২ জানুয়ারি ২০২৬) সমগ্র ইরান জুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ইরানী জনতা ঠিক এ ধরনের সমাবেশ ও মিছিল করেছিল এবং আগামী ২২ এসফান্দ (১৩ মার্চ২০২৬) মোতাবেক ২৩ রমযান জুম'আতুল বিদা (রমযান মাসের শেষ শুক্রবার) বিশ্ব আল-কুদস দিবস উপলক্ষে সারা ইরান জুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ইরানী জনতার অংশগ্রহণে মিছিল ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছর এই অল্প সময়ের মধ্যে ৩ টা বিশাল সমাবেশের আয়োজন সত্যিই বিস্ময়কর ও গৌরবজনক। মহান আল্লাহর অপার কৃপা ও অনুগ্রহে সকল জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং মুসলিম উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে এই ৪৭ বছরে ময়দানে ইরানী  জাতির এই বৈপ্লবিক উপস্থিতি শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ ও ভণ্ডুল করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে।

তাই নি:সন্দেহে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের দিবস ২২ বাহমান (১১ ফেব্রুয়ারি) ইয়াওমুল্লাহ (মহান আল্লাহর দিবস) এবং নাবা-ই আযীম (অর্থাৎ মানব জাতির ইতিহাসের মহা ঘটনাবলীর অন্তর্ভুক্ত)।

ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৪৭ বছরের মাথায় সর্ববৃহৎ বিশ্ব কুফরী শক্তি মাযুরা, ইসরাইল এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর মোকাবিলায় ফিলিস্তিন ও আল-কুদস মুক্ত করার অভিপ্রায় নিয়ে দৃঢ় অটল পর্বতের মতো দাঁড়িয়েছে ইসলামী বিপ্লবী ইরান।

তাই যে কোনো সময় মহা সমর অত্যাসন্ন।এর মানে অজস্র চেষ্টা সত্ত্বেও ইসলামী বিপ্লবী ইরানকে বিচ্যুত করতে পারে নি বিশ্ব লুটেরা মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), ইসরাইল ও ন্যাটো জোট! আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম খামেনেয়ীর সুযোগ্য নেতৃত্বে ইরান মাথা ও বুক উঁচু করে ইসলামী উম্মাহর সুরক্ষার জন্য দাঁড়িয়েছে।

এতে এমনকি যদি ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শাহাদাতও বরণ করেন তবুও তিনি মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে অটল ও দৃঢ়পদ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বিশ্বের সকল মুসলমানের উচিত এবং তাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে এই বীর সাহসী অশীতিপর বৃদ্ধ মহান নেতা ও ইসলামী বিপ্লবী ইরানকে সর্বাত্মক ভাবে সমর্থন, সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করা।

ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান 
১৩-২-২০২৬

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha