হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩৫৬ সালের ২৯ বহমান তারিখে তাবরিজের জনগণের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে, মঙ্গলবার ২৮ বহমান ১৪০৪, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ইসলামী বিপ্লবের নেতা এই সাক্ষাতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন, যা অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।
তাঁর বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত অংশ নিম্নরূপ:
কিছু রক্ত মাটিতে ঝরেছে। আমরা শোকাহত। আমি বলছি, যে রক্ত ঝরেছে তার জন্য আমরা শোকপালন করছি। কিছু লোক ছিল—যারা নিজেরাই দুষ্কৃতকারী, ফিতনাকারী ও অভ্যুত্থানকারী ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই মৃত্যুবরণ করেছে এবং তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে। তাদের নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু আরও একদল ছিল যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
নিহত ও প্রাণ হারানোদের আমি তিন ভাগে ভাগ করছি:
প্রথম দল—নিরাপত্তা রক্ষাকারী ও ব্যবস্থার সুরক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা; তারা হোক পুলিশ, বাসিজ ও সেপাহ সদস্য, অথবা তাদের সহযোগী অন্যান্য ব্যক্তি। তারা শহীদ হয়েছেন। তারা শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় দল—সাধারণ পথচারী মানুষ। যখন শহরের ভেতরে ফিতনাকারীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তখন শুধু তাদের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; নিরপরাধ মানুষও রাস্তায় চলতে গিয়ে, কর্মস্থলে বা বাড়ির পথে নিহত হয়। তাদেরও একাংশ শহীদ হয়েছে। শত্রুর ফিতনার মধ্যে তারা শহীদ হয়েছে—গুলিটি যেখান থেকেই আসুক না কেন, এটি শত্রুর ষড়যন্ত্রের ভেতরেই ঘটেছে। তারাও শহীদ।
তৃতীয় দল—যারা প্রতারিত হয়েছিল, সরলতা দেখিয়েছিল, অনভিজ্ঞ ছিল এবং ফিতনাকারীদের সঙ্গে কিছুটা পথ হেঁটেছিল। আমি বলতে চাই, তারাও আমাদেরই লোক; তারাও আমাদের সন্তান। তাদের অনেকেই পরে অনুতপ্ত হয়েছে। কেউ কেউ আমাকে চিঠি লিখেছে যে সেদিন আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম, আমাদের ক্ষমা করুন। তারা কারাগারেও ছিল না, মুক্তই ছিল। তারা ভুল করেছে, পরে অনুতপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছে, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ তাদেরও শহীদ হিসেবে গণ্য করেছে—এটি সঠিক সিদ্ধান্ত।
অতএব, যাদের আমরা শহীদ হিসেবে গণ্য করছি সেই প্রাণ হারানোদের পরিধি বিস্তৃত। ফিতনার মূল হোতা, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও যারা শত্রুর কাছ থেকে অর্থ ও অস্ত্র নিয়েছিল—তাদের বাদে বাকি সবাই, নিরাপত্তা রক্ষাকারী হোক, পথচারী হোক বা যারা কিছুটা পথ ফিতনাকারীদের সঙ্গে গিয়েছিল—তারা আমাদের সন্তান। আমরা তাদের জন্য রহমত ও মাগফিরাত কামনা করি। তারা ভুল করেছে, আল্লাহ যেন তাদের ভুল ক্ষমা করেন, ইনশাআল্লাহ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন যে তাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও এমন চড় খেতে পারে যে আর উঠতে না পারে। তারা সবসময় বলে আমরা ইরানের দিকে জাহাজ পাঠিয়েছি। ঠিক আছে, যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক যন্ত্র, কিন্তু জাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক সেই অস্ত্র যা সেই জাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বলেছেন যে ৪৭ বছর ধরে আমেরিকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেনি—তিনি নিজ জনগণের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। ৪৭ বছরেও আমেরিকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেনি—এটি একটি ভালো স্বীকারোক্তি। আমি বলছি: ভবিষ্যতেও তোমরা তা করতে পারবে না।
হাওজা / পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আপনার কমেন্ট