বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০১:১৪
কারা আল্লাহর মেহমান হওয়ার যোগ্য?

রমজান শুধু রোজার মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সম্পর্ক পরিশুদ্ধকরণ এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক মহাসুযোগ। এ মাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—আল্লাহর মেহমান হওয়া যেমন সৌভাগ্যের, তেমনি হৃদয়কে এমনভাবে প্রস্তুত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আমরা তাঁর অনুগ্রহ ধারণের যোগ্য হয়ে উঠতে পারি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহিল উজমা জাওয়াদী আমুলি পবিত্র রমজান মাসের আগমন উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি বলেন— মহিমান্বিত রমজান মাস সমাগত। এটি ‘শাহরুল্লাহ’—আল্লাহর মাস। অপরিসীম জালাল ও শান-শওকত নিয়ে এই মাস আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে উপস্থিত হচ্ছে। এমন এক মহান মাসকে যথাযথভাবে গ্রহণ করার জন্য আমাদের আত্মিক ও নৈতিক প্রস্তুতি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আমাদের উচিত অন্তরের সব হিংসা, বিদ্বেষ ও কুদৃষ্টি পরিত্যাগ করা। মানুষের যে অধিকার (হক) আমাদের ওপর রয়েছে, তা আদায় করা কিংবা ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা। পবিত্র আত্মা, নির্মল হৃদয় ও পরিশুদ্ধ জীবনাচার নিয়ে এই মাসকে স্বাগত জানাতে হবে। বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অন্তরের পবিত্রতাও সমানভাবে জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শাবান মাসের শেষ দিনগুলো অবহেলা করা উচিত নয়। রোজার মাধ্যমে রমজানকে অভ্যর্থনা জানানো মুস্তাহাব আমল। একইভাবে, ঈদুল ফিতরের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা হলো এই বরকতময় ‘শাহরুল্লাহ’-কে যথাযোগ্যভাবে বিদায় জানানোর একটি উত্তম পন্থা। এভাবে রমজানকে বরণ ও বিদায়—উভয় ক্ষেত্রেই রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি বলেন, আল্লাহর মেহমান হওয়া অবশ্যই এক মহান মর্যাদা। রমজান মাসে সবাই আল্লাহর মেহমান। হজ ও উমরাহ পালনকারীরাও বায়তুল্লাহতে গিয়ে আল্লাহর মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন—কেবল ‘মেহমান’ হওয়াই চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; তার চেয়েও উচ্চতর মর্যাদা হলো আল্লাহর জন্য ‘মেজবান’ হওয়া।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—আমি দাওয়াত দিই এবং নিজেও মেহমান হই। তোমরা চেষ্টা করো মেজবান হতে; আমাকে আহ্বান করো, আমি আসব।

বক্তব্যের তারিখ: ৩০/১১/১৯৯৩

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha