বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২৩:০১
শোকনৃত্য কি আসলে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক তন্ত্র ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ?!!

মৃতের কবর ও সমাধিতে শোকনৃত্য ঐতিহাসিক ঐতিহ্য নাকি শোক পালনের প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় মাযহাবী প্রথা,ঐতিহ্য ও রাতি-নীতি লংঘনকারী ও বিধ্বংসী নব্য উদ্ভাবিত পন্থা!!!

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সমাধির ওপর শোকনৃত্য কি নৃত্য কারীর জন্য ইল্তিয়াম (প্রশান্তি ও সান্ত্বনা) আনয়ন করে?!!!
এর মানে কী? প্রচলিত মাযহাবী শোকানুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত,রওযাখ্বানী, কান্নাকাটি ও সিনাযানীর (বুক চাপড়ে মাতম) পরিবর্তে মৃতের কবরের ওপর এমনকি পুরুষ-মহিলাদের নেচে গেয়ে অর্থাৎ নর্তন-কুর্দন করে শোক প্রকাশ 

শোকনৃত্য কি আসলে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক তন্ত্র ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ?!!

কেমন বিষয়?এটা তো মাযহাবী আযাদারীর পরিপন্থী বিষয় এবং ঐ সব ব্যক্তিদের কাজ যারা গায়র মাযহাবী (অধার্মিক) সেক্যুলার ধাঁচের এবং (আন)সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ (অ)সামাজিক ভার্চুয়াল মাধ্যমসমূহ দিয়ে প্রভাবিত। এই ধাঁচ ও পদ্ধতির আযাদারী (শোক পালন)  ইসলাম ও মাযহাবের এক নম্বর দুশমন যায়নিস্ট ও পশ্চিমাদের উদ্ভাবিত এবং (আন)সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ (অ)সামাজিক মাধ্যমে বহুল প্রচারিত যা প্রতিষ্ঠিত শোক ও আযাদারী সংক্রান্ত স্বীকৃত প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী মাযহাবী সংস্কৃতির পরিপন্থী!!! এখন এক্ষেত্রে সেক্যুলার সমাজবিশারদ ও মনোবিজ্ঞানীরা যে যাই বলুক না কেন তাতে কিছু আসে যায় না। এমনকি নারী ও পুরুষের সম্মিলিত বা নারীর একক এই শোকনৃত্য আযাদারী ও শোক পালনের প্রাচীন প্রাগৈসলামিক প্রথা ও ঐতিহ্য হলেও। বরং অনেক ক্ষেত্রে এদের সেক্যুলারধর্মী বিশ্লেষণের (দ্বীনী মাযহাবী শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে) মূল্য আছে কি? 
এ ধরনের আযাদারী (শোক পালন)  আসলে পাশ্চাত্যের পরিকল্পিত হানজর্ শেকান (আখলাক:নীতিনৈতিকতা ও চারিত্রিক মূল্যবোধ,নিয়ম ও প্রথা ধ্বংসকারী) সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। একে সাদামাটা দৃষ্টিতে দেখা একদম অনুচিত।আযাদারী ও শোক পালনের এই নব্য রীতি প্রতিষ্ঠিত মাযহাবী দ্বীনী সমাজ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসন যা (আন)সোশ্যাল অর্থাৎ (অ)সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছে তৎপর যায়নিস্ট-পশ্চিমা মিডিয়া এ্যাক্টিভিস্টরা। অতএব ইসলামের দুশমনদের এ সব কর্মকাণ্ড ও তৎপরতার ব্যাপারে অবশ্যই সাবধান এবং প্রয়োজনীয় উপযুক্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে হবে। আর কোনো কোনো সামাজিক বিশ্লেষক ও মনোবিজ্ঞানীর ধারণায় এটা (মৃতের সমাধি বা কবরের ওপর শোকনৃত্য) শোকপ্রকাশ কারীদের নাকি হায়াজান্ (هیجان ) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা, অস্থিরতা ও চাপ প্রশমন ও খালি করার চাইতেও যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা ও তন্ত্র এ ধরনের অবস্থা ও শোকের কারণ হয়েছে সেটার প্রতি বিদ্রোহ ও মুখ ভেংচি স্বরূপ!!!!!
বহু ক্ষেত্রে আবার বিশ্লেষকদের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ সত্যিই জনগণের আকীদা-বিশ্বাস, দ্বীন ও মাযহাবের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেউ কেউ বলেছেন যে ঐতিহ্যবাহী মাযহাবী শোকানুষ্ঠান, আযাদারী, রওয়াখ্বানী ও কান্নাকাটির মাধ্যমে এখন আর ইলতিয়াম (প্রশান্তি ও সান্ত্বনা) হাসিল (অর্জিত) হচ্ছে না অর্থাৎ বেদনা ক্লিষ্ট শোকার্ত দিল প্রশান্ত ও আরাম হচ্ছে না!!!! তাহলে মৃতের কবরের ওপর শোকনৃত্য করলেই (নাচলে গাইলেই) কি ইলতিয়াম (অর্থাৎ প্রশান্তি ও শান্তি) হাসিল (অর্জিত) হবে?!!!
ইদানীং (আন)সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্থাৎ (অ)সামাজিক মাধ্যম সমূহে আসলে দ্বীন ও মাযহাবকেই আক্রমণ ও হামলার নিশানা ও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং এ ধরনের উদ্ভট রীতিনীতি ও প্রথার (সবার সামনে প্রকাশ্যে মৃতের কবর ও সমাধির ওপর নারী ও পুরুষদের শোকনৃত্য) প্রবর্তন ও প্রসার ঘটানো হচ্ছে।আবার সেই সাথে পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রভাবিত কতিপয় বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকেও এ সব নব্য বিচ্যুতি মেনে নেওয়া বা অন্ততপক্ষে এগুলো উপেক্ষা করা ও এগুলো দেখেও না দেখার ভান করার আহ্বান জানান ও প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে!!!
আসলে শোক প্রকাশের এ ধরনের নব্য উদ্ভাবিত উদ্ভট রীতিনীতি যেমন:মৃতের সমাধিতে শোকনৃত্য (আন) সোশ্যাল মিডিয়ায় যার প্রচার ও প্রসার দেওয়া হচ্ছে তা আসলে আদর্শিক, দ্বীনী, মাযহাবী, শরয়ী, ঐতিহাসিক, মনস্তাত্বিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রচারণামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে সার্বিক সামগ্রিক বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন করে আযাদারী ও শোক পালনের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিচ্যুতির সংশোধন সংক্রান্ত যথাযথ কার্যকর সামগ্রিক

ব্যবহারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অনেক বিশেষজ্ঞ বহু দৃষ্টি কোণ থেকে কথা বললেও তাঁরা দ্বীনী শরয়ী দৃষ্টিকোণ এড়িয়ে যান। অথচ দ্বীনী শরয়ী দৃষ্টিকোণ শুধু এক পেশী তো নয়ই বরং সকল যাবতীয় দিক ও পর্যায়ের অধিকারী। কারণ মহান সর্বজ্ঞ স্রষ্টা যিনি শারে' (বিধানদাতা) তিনি মানব জীবনের সার্বিক দিক ও কল্যাণ বিবেচনা করত: বিধি-বিধান ও আইন-কানুন তাশরী' (প্রণয়ন) করেছেন যাতে মানব জাতি কাংখিত পূর্ণতা অর্জন করে চির সৌভাগ্যবান হতে পারে। তাই এই বিচ্যুতির (মৃতের সমাধিতে শোকনৃত্য) ক্ষেত্রে শরয়ী বিধিনিষেধ ও সীমারেখাকে অবশ্যই রেয়াত ও পালন করতেই হবে এবং এক্ষেত্রে অজ্ঞ জাহিল ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত যথার্থ শরয়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে যার কোনো বিকল্প নেই।আর এ ক্ষেত্রে বাদবাকি দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃষ্টিকোণ ভিত্তিক অধ্যয়ন ও পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে শরয়ী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha