হাওজা নিউজ এজেন্সি: প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করার বিপদ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কাতারসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলো নদী বা প্রাকৃতিক মিঠাপানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল নয় বরং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানি চাহিদা মেটায়।
“আমাদের জনগণ যে পানি ব্যবহার করে তা লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট থেকে আসে। আমাদের কোনো নদী নেই, পানির মজুতও নেই। এটি না থাকলে, বাস্তবে দেশটি তিন দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ পানির সংকটে পড়বে,” শেখ মোহাম্মদ সতর্ক করে বলেন।
তিনি আরও জানান, এই সংকট শুধু কাতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও।
“যদি ওই পারমাণবিক স্থাপনাটি [বুশেহর] লক্ষ্যবস্তু হয় এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এসব দেশের কোনো পানির উৎসই অবশিষ্ট থাকবে না। পানি থাকবে না, মাছও থাকবে না—বাস্তবে জীবনের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে,” যোগ করেন তিনি।
কাতারের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকট আকার ধারণ করেছে। কাতার বহুদিন ধরেই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করলেও এবার তারা সরাসরি নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট করলো।
বিশ্লেষকদের মতে, বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রটি ফারসি উপসাগরের তীরে অবস্থিত। ওই এলাকায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়লে তা সমুদ্রস্রোতের মাধ্যমে দ্রুত জিসিসি দেশগুলোর পানিশোধনাগারে পৌঁছাতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য অকল্পনীয় মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে।
এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে ইসরায়েল বা ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে কাতারের এই কঠোর বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আপনার কমেন্ট