শনিবার ২৮ মার্চ ২০২৬ - ১০:৩৫
শর্তসাপেক্ষ ঋণ

হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ‘শর্তসাপেক্ষ ঋণ’ বিষয়ক এক ইস্তিফতার জবাব দিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী ‘শর্তসাপেক্ষ ঋণ’ সংক্রান্ত এক ইস্তিফতারের জবাব দিয়েছেন। তা আগ্রহী পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:

প্রশ্ন: আমি একটি কার্জুল হাসানা বা কল্যাণমূলক ঋণ তহবিলে (সান্দুকুল কার্জুল হাসানা) হিসাব খুলেছি, যাতে কিছুদিন পর আমি সেখান থেকে কার্জুল হাসানা (কল্যাণমূলক) ঋণ পেতে পারি। এই নিয়তে হিসাব খোলার হুকুম কী?

উত্তর: হিসাব খোলার সময় যদি হিসাবধারীর পক্ষ থেকে ঋণ পাওয়ার শর্ত না থাকে, কিংবা ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ দেওয়ার অঙ্গীকার না থাকে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে উল্লিখিত শর্ত বা অঙ্গীকারের ভিত্তি (বুনিয়াদ) না থাকে, তাহলে তা জায়েজ। যদিও হিসাবধারী জানে যে, ব্যাংক তার নির্ধারিত কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী তাকে ঋণ দেবে।

সম্পূরক ব্যাখ্যা:
‘শর্তসাপেক্ষ ঋণ’ (قرض به شرط وام) বলতে এমন একটি লেনদেন বোঝায়, যেখানে কেউ একটি ঋণ দেয় এই শর্তে যে, বিনিময়ে সে অন্য একটি ঋণ পাবে। ইসলামী অর্থনীতিতে এটি সাধারণত নিষিদ্ধ, কারণ এতে সুদ বা প্রতারণার আশঙ্কা থাকে। তবে প্রশ্নোত্তরে বর্ণিত ক্ষেত্রে—

· যদি হিসাব খোলার সময় স্পষ্ট শর্ত না রাখা হয়,
· কিংবা আইনগত অঙ্গীকার (যেমন চুক্তিপত্রে উল্লেখ) না থাকে,
· আর উভয় পক্ষের লেনদেন সেই শর্তের ওপর ভিত্তি না করে,

তাহলে কেবলমাত্র ধারণা বা প্রত্যাশা থাকার কারণে লেনদেনটি হারাম হয় না। অর্থাৎ ব্যাংকের নিয়মিত পদ্ধতি জানা থাকলেও, যতক্ষণ পর্যন্ত তা চুক্তির শর্ত হিসেবে গণ্য না হয়, ততক্ষণ তা জায়েজ।

এই ফতোয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইসলামী লেনদেনের মূলনীতি হলো নির্ভুল ইচ্ছা ও আনুষ্ঠানিক শর্তের অনুপস্থিতি। প্রথাগত কর্মপদ্ধতি মাত্রই লেনদেনকে নাজায়েজ করে না।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha