মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ - ১২:১৫
ইরানি জাতি ও সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করবে

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ও দৃঢ়চেতা জনগণের ‘লৌহমুষ্টি’ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে ও আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক আইআরজিসি প্রধান কমান্ডার রেজায়ী ওয়াশিংটনের ‘অসঙ্গতিপূর্ণ ও কাপুরুষোচিত’ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি লেখেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হামলার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেন, পরে আবার নিজেই তা বাতিল করেন—শুধু এই আশায় যে ইরানি জাতি ও কর্মকর্তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে!”

রেজায়ী আরও বলেন, “কিন্তু ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ও মহান জাতির লৌহমুষ্টিই শেষ পর্যন্ত তাদের পিছু হটতে ও আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে।”

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা দেন যে, মঙ্গলবারের জন্য পরিকল্পিত ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা আলোচনার সুযোগ দিতে তাকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি” না হলে যুক্তরাষ্ট্র “পূর্ণমাত্রার বড় ধরনের হামলা” চালাতে প্রস্তুত থাকবে। তার ভাষায়, সেই চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো—“ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।”

অন্যদিকে, ইসলামী বিপ্লবের নেতার ফতোয়ার আলোকে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়ে আসছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি এবং এ ধরনের অস্ত্র তাদের কাছে নেই। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে চাপ, হুমকি ও ভয়ভীতির নীতি অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হুমকি ও যুদ্ধংদেহী বক্তব্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সম্ভব হয়েছে ইসলামী বিপ্লবের প্রতিরোধক্ষমতা এবং ইরানি জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোহসেন রেজায়ীর ভাষায়, “মার্কিন গানবোট কূটনীতির যুগ শেষ হয়ে গেছে।” ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আবারও প্রমাণ করেছে যে, প্রতিরোধই ঔদ্ধত্যকে পরাজিত করতে সক্ষম।

এদিকে, চীন সফরের সময় ট্রাম্প নাকি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট নিরসয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কথিত আগ্রাসনের জবাবে ইরান অঞ্চলে একাধিক মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন অবৈধ নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলে তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha