বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬ - ০৯:১৯
দারিদ্র্যের চেয়েও ভয়ংকর ‘দারিদ্র্যের অনুভূতি’

মানুষের জীবনে সুখ ও প্রশান্তির অন্যতম ভিত্তি হলো মানসিক তৃপ্তি ও সন্তুষ্টি। কিন্তু যখন সুখকে কেবল অর্থ–সম্পদ ও বাহ্যিক প্রাচুর্যের সঙ্গে পরিমাপ করা হয়, তখন জীবনে নেমে আসে অস্থিরতা, হতাশা ও অসন্তোষ। পরিবার ও দাম্পত্যজীবন বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বস্তুগত প্রতিযোগিতা ও অন্যের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা পরিবারে অশান্তির অন্যতম কারণ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি:  পরিবার ও বিবাহবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মুহসিন আব্বাসি ওয়ালাদি তাঁর এক আলোচনায় অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সুখ এবং পারিবারিক অশান্তির সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

দারিদ্র্যের চেয়েও ভয়ংকর ‘দারিদ্র্যের অনুভূতি’

তিনি বলেন, “যে নারী–পুরুষ সুখকে কেবল বস্তুগত সম্পদের প্রাচুর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করেন, তাদের জীবনে সাধারণত দুটি নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়।

প্রথমত, তারা সবসময় নিজেদের অভাবগ্রস্ত মনে করতে থাকেন। অথচ তাদের জীবনের ন্যূনতম সুযোগ–সুবিধাও অনেক মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। কারণ তারা নিজেদের বাস্তব অবস্থা নয়, বরং অন্যের জীবনযাত্রার সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করেন।

তিনি বলেন, প্রকৃত দারিদ্র্যের চেয়েও ভয়ংকর হলো ‘দারিদ্র্যের অনুভূতি’। প্রকৃত দরিদ্র সেই ব্যক্তি, যার ন্যূনতম জীবনধারণের উপকরণও নেই। কিন্তু যখন সে তার মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়, তখন সে স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি মানসিকভাবে নিজেকে অভাবগ্রস্ত মনে করে, সে আশপাশে নিজের চেয়ে উন্নত জীবনযাপনকারী কাউকে দেখলেই নিজেকে অসহায় ও পিছিয়ে পড়া ভাবতে শুরু করে। ফলে তার মনে কখনোই তৃপ্তি জন্ম নেয় না।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মানসিকতার দ্বিতীয় বড় পরিণতি হলো—নিজেকে দুর্ভাগা ও অসুখী মনে করা।

বিশেষত যদি পরিবারের নারী এ ধরনের মানসিক চাপে আক্রান্ত হন, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই এমন কাউকে নিজের কষ্টের জন্য দায়ী করবেন, যাকে তিনি নিজের অপূর্ণতার কারণ মনে করেন। অনেক ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি হয়ে ওঠেন তাঁর স্বামী। ফলে দাম্পত্য সম্পর্কে অভিযোগ, অসন্তোষ ও মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়।

মুহসিন আব্বাসি ওয়ালাদি মনে করেন, বর্তমান সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিলাসী জীবনযাত্রার প্রচার এবং অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করছে। মানুষ নিজের বাস্তব সামর্থ্যের চেয়ে অন্যের বাহ্যিক জীবন দেখে প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে কৃতজ্ঞতা, আত্মতৃপ্তি ও সংযমের মতো মূল্যবোধ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত সুখ সম্পদের আধিক্যে নয়; বরং সন্তুষ্টি, সংযম, আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অন্যের সঙ্গে অযথা তুলনা পরিহারের মধ্যেই নিহিত। যে পরিবার অল্পের মধ্যে তৃপ্ত থাকতে শেখে, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানকে গুরুত্ব দেয়, সেই পরিবারই প্রকৃত অর্থে শান্তি ও সুখের স্বাদ উপভোগ করতে পারে।

উৎস: আজ নও বা তো (নতুন করে তোমার সঙ্গে) গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha