হাওজা নিউজ এজেন্সি: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যায় শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) বলেছেন, প্রকৃত দূরদর্শী সেই ব্যক্তি, যে ক্রোধের মুহূর্তে আত্মসংযম বজায় রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নিজের অস্তিত্বকে অন্যের উপকারের উৎসে পরিণত করাই প্রকৃত নেককার ও শ্রেষ্ঠ মানুষের পরিচয়।
ফিকহের উচ্চতর পাঠের এক অধিবেশনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি (রহ.) বলেন,
عَنِ النَّبِيِّ (ص): وَأَحْزَمُ النَّاسِ أَكْظَمُهُمْ لِلْغَيْظِ
মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দূরদর্শী সে, যে নিজের ক্রোধ সংযত রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘হাজম’ অর্থ দূরদর্শিতা, সতর্কতা এবং জীবনের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে চলা। দূরদর্শী ব্যক্তি প্রতিটি পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের আগে তার সবদিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ক্রোধ মানুষের বিবেকের ওপর পর্দা ফেলে দেয়। মানুষ যখন রাগান্বিত হয়, তখন সে অনেকাংশে বিবেকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে তার মুখ থেকে অনুপযুক্ত কথা বের হয়, ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং অসংযত আচরণ করে। তাই যে ব্যক্তি ভুল ও বিচ্যুতি থেকে বাঁচতে চায়, তার জন্য ক্রোধ সংবরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগের সময় এমনভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে সেই রাগ তার কথা, কাজ, আচরণ কিংবা সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় মানুষ পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রভাবে আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। কোনো জনসমাগম বা বিশেষ পরিবেশের আবহে এমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা স্বাভাবিক অবস্থায় হয়তো দেখাত না। এ ধরনের আবেগপ্রসূত ক্রোধ বহু ভুল ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্ম দেয়।
এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আরেকটি বাণী উল্লেখ করেন:
وَأَصْلَحُ النَّاسِ أَصْلَحُهُمْ لِلنَّاسِ
মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সৎ ও কল্যাণকামী সে, যে মানুষের কল্যাণে সবচেয়ে বেশি কাজ করে।
তিনি বলেন, আমরা সবাই আল্লাহর নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই। আর নেককার হওয়ার অন্যতম উপায় হলো মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের উপকারে এগিয়ে আসা।
এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আরেকটি মূল্যবান বাণী তুলে ধরেন:
وَخَيْرُ النَّاسِ مَنْ انْتَفَعَ بِهِ النَّاسُ
সর্বোত্তম মানুষ সে, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়।
তিনি বলেন, শ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যার অস্তিত্ব অন্যদের জন্য কল্যাণ ও উপকারের উৎস হয়ে ওঠে। মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজন পূরণে তার কাছে আসে এবং তার মাধ্যমে উপকৃত হয়। মানুষের উপকারে নিবেদিত জীবনই প্রকৃত অর্থে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড।
আপনার কমেন্ট