বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২৬ - ১৩:৩৬
পবিত্র কুরআনে মাহদাভিয়াত (৫ম ও শেষ খন্ড)

কুরআনের আয়াতসমূহে কখনো বাহ্যিক (জাহির) ও অভ্যন্তরীণ (বাতেন) উভয় ধরনের অর্থ বিদ্যমান থাকে। এই গভীর অর্থের জ্ঞান কেবল নবী মুহাম্মদ (সা.), ইমামগণ (আ.) এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তারাই লাভ করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, “আদর্শ সমাজের দিকে” শিরোনামে মাহদাভিয়াত বিষয়ক এই ধারাবাহিক আলোচনা ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষা ও জ্ঞান প্রচারের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

চতুর্থ আয়াত

وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا يَأْتِ بِكُمُ اللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

প্রত্যেকেরই একটি দিক (কিবলা) আছে, যেদিকে সে মুখ ফেরায়। অতএব তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তোমাদের সবাইকে একত্র করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান।” [সূরা বাকারা: ২:১৪৮]

রেওয়ায়েতসমূহ:
ইমাম বাকির (আ.) বলেন—

يَعْنِي أَصْحَابَ الْقَائِمِ الثَّلَاثَ مِائَةٍ وَبِضْعَةَ عَشَرَ رَجُلًا قَالَ وَاللَّهِ إِنَّهُمُ الْأُمَّةُ الْمَعْدُودَةُ يَجْتَمِعُونَ فِي سَاعَةٍ وَاحِدَةٍ كَقَزَعِ الْخَرِيفِ.

এর উদ্দেশ্য হলো ইমামে কায়েম (আ.ফা.)-এর ৩১৩ জন সঙ্গী। আল্লাহর কসম! তারা ‘উম্মতে মা‘দূদা’। তারা এক মুহূর্তে একত্রিত হবে, যেমন শরতের ছিন্নভিন্ন মেঘ বাতাসে একত্রিত হয়।”
[আল-কাফি, খণ্ড ৮, পৃ. ৩১৩]

ইমাম রেযা (আ.) বলেন—

وَذَلِكَ وَاللَّهِ أَنْ لَوْ قَامَ قَائِمُنَا لَجَمَعَ اللَّهُ إِلَيْهِ شِيعَتَنَا مِنْ جَمِيعِ الْبُلْدَانِ

আল্লাহর কসম! যখন আমাদের কায়েম (আ.) আবির্ভূত হবেন, আল্লাহ পৃথিবীর সব শহর ও অঞ্চল থেকে আমাদের অনুসারীদের তাঁর কাছে একত্র করবেন।
[বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫২, পৃ. ২৯১]

পঞ্চম আয়াত

بَقِيَّتُ اللَّهِ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ

আল্লাহর অবশিষ্ট (বরকতময় অংশ) তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো অভিভাবক নই।” [সূরা হুদ: ১১:৮৬]

রেওয়ায়েত:
ইমাম বাকির (আ.) বলেন—

وَأَوَّلُ مَا يَنْطِقُ بِهِ هَذِهِ الْآيَةُ: بَقِيَّتُ اللَّهِ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا بَقِيَّتُ اللَّهِ فِي أَرْضِهِ.

ইমাম মাহদী (আ.ফা.) প্রথম যে বাক্য উচ্চারণ করবেন তা হলো এই আয়াত। এরপর তিনি বলবেন: ‘আমিই আল্লাহর জমিনে তাঁর অবশিষ্ট প্রতিনিধি।’
[কামালুদ্দীন ও তামামুন নি‘মাহ, খণ্ড ১, পৃ. ৩৩০]

আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হযরত শুয়াইব (আ.)-এর জাতির উদ্দেশ্যে হলেও, “বাকিয়াতুল্লাহ” শব্দটি কুরআনের বিস্তৃত অর্থে এমন প্রতিটি ঐশী কল্যাণকে বোঝায় যা মানবতার জন্য অবশিষ্ট থাকে। এই অর্থে সকল নবী ও ইমামই “বাকিয়াতুল্লাহ”।

তবে ইমাম মাহদী (আ.ফা.) যেহেতু শেষ ঐশী ইমাম এবং মানবতার চূড়ান্ত ন্যায়নেতা, তাই তিনি এই উপাধির সর্বাধিক পূর্ণ ও স্পষ্টতম মিসদাক।

ষষ্ঠ আয়াত

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّه

তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সকল ধর্মের ওপর এটিকে বিজয়ী করেন। [সূরা তাওবা: ৯:৩৩]

রেওয়ায়েত:
ইমাম সাদিক (আ.) বলেন—

وَاللَّهِ مَا تَأْوِيلُهَا بَعْدُ وَلَا يَتِمُّ تَأْوِيلُهَا حَتَّى يَخْرُجَ الْقَائِمُ... فَلَا يَبْقَى كَافِرٌ وَلَا مُشْرِكٌ إِلَّا كَرِهَ خُرُوجَهُ

আল্লাহর কসম! এই আয়াতের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো ঘটেনি এবং ঘটবেও না যতক্ষণ না কায়েম (আ.) আবির্ভূত হন… তখন আর কোনো কাফির ও মুশরিক অবশিষ্ট থাকবে না—তারা তাঁর আগমনকে অপছন্দ করবে।”
[কামালুদ্দীন ও তামামুন নি‘মাহ, খণ্ড ২, পৃ. ৬৭০]

কিছু শিয়া আলেমের মতে মাহদাভিয়াত সম্পর্কিত আয়াতের সংখ্যা ১২০টিরও বেশি। তাই এখানে সংক্ষিপ্তভাবে মূল আয়াতসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে।

কুরআনে মাহদাভিয়াত সংক্রান্ত আলোচনা এখানেই শেষ, কিন্তু এই আলোচনা চলমান থাকবে…

গ্রন্থসূত্র: ‘দারসনামা-এ মাহদাভিয়াত’— খোদা-মুরাদ সোলাইমান (সামান্য সম্পাদিত)

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha