হাওজা নিউজ এজেন্সি: তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সংঘাতকে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। তাঁর ভাষায়,
“আমরা ইরানকে পছন্দ করি বা না করি, বাস্তবতা হলো ইরান একটি মুসলিম দেশ। আজ দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো অমুসলিম শক্তির চাপ ও আগ্রাসনের মুখে রয়েছে। ইসলামের শিক্ষা হলো—মুসলমান আগ্রাসনের শিকার মুসলমানের পাশে দাঁড়াবে, আগ্রাসীর পাশে নয়।”
শাইখ আবদুল কাওয়ি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর অবস্থান কোনো রাজনৈতিক আনুগত্যের ফল নয়; বরং ইসলামী নীতির ভিত্তিতে গৃহীত। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা অন্য কোনো মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালায়, সেক্ষেত্রেও তিনি সেই দেশের পক্ষেই অবস্থান নেবেন।
তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষা প্রতিটি জাতি ও রাষ্ট্রের স্বীকৃত অধিকার। ইসলামী ফিকহ যেমন এ অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক আইনও তা সমর্থন করে।
ফিলিস্তিন ও গাজার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি কিছু আরব রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন এবং বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের কারণে অন্তত ইরান কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য।
এছাড়া তিনি সৌদি আরব ও কাতারে ক্রমবর্ধমান সেইসব মতের প্রশংসা করেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা করছে। তাঁর মতে, এটি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বাস্তববোধের পরিচায়ক।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় মজলুমের পাশে দাঁড়াব, জালিমের পাশে নয়। সত্য ও ন্যায় যেখানে থাকবে, আমাদের অবস্থানও সেখানেই হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, মাজহাবগত বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন মুসলিম উম্মাহকে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার প্রশ্নে বিভক্ত না করে।
আপনার কমেন্ট