মঙ্গলবার ৯ জুন ২০২৬ - ১৫:০২
লেবানন যেকোনো চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত”—ইরানি সংসদ সদস্য

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে “গুরুতর সদিচ্ছা” দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দৃষ্টিতে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো লেবানন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য ইব্রাহিম আজিজিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন দাবি করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি সম্ভব কি না। জবাবে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি না তিনি (ট্রাম্প) আন্তরিক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বহুবার বলেছি, আলোচনাকে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রেরই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখি। আমরা আলোচনাকে যুদ্ধেরই অংশ মনে করি।”

তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যদি আন্তরিকতার প্রমাণ মেলে—বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে—এবং যদি ইরান নিশ্চিত হতে পারে যে তারা আলোচনার নীতিমালা মেনে চলবে, তাহলে ইরান আলোচনায় বসতে আপত্তি করবে না।

এই সংসদ সদস্য বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো “গুরুতর সদিচ্ছা” দেখা যাচ্ছে না, যার মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। তিনি ইরানের স্থগিত সম্পদকে (blocked assets) এই অনীহার একটি “স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক ইস্যু সম্পর্কে তিনি বলেন, “বর্তমানে এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। এ বিষয়ে কোনো আলোচনার পরিকল্পনাও নেই, কারণ এই পর্যায়ে এসব নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্য নেই।”

ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি নির্ভর করছে অপর পক্ষের আচরণের ওপর। যদি একই আচরণ অব্যাহত থাকে, তাহলে আমাদের কোনো আস্থা থাকবে না। এই আস্থাহীন অবস্থায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, আর আলোচনা না চললে কোনো ফলও আসবে না।”

তবে তিনি বলেন, যদি ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হয়—বিশেষ করে অর্থনৈতিক, আর্থিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এবং লেবানন ইস্যুতে—তাহলে অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা কখনোই প্রতিরোধ ফ্রন্ট, এর সদস্যদের এবং বিশেষ করে লেবানন ইস্যু থেকে পিছপা হব না।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি আগ্রাসনমূলক যুদ্ধ শুরু করে, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং পারমাণবিক স্থাপনা, স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪” এর অধীনে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, যা পশ্চিম এশিয়া এবং অধিকৃত অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এপ্রিলের শুরু থেকে পাকিস্তান-মধ্যস্থ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এখনো ইরানি বন্দরে বহাল রয়েছে।

তেহরান জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা হবে না।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha