বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ - ১১:০৯
শোকাহত মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলবেন?

প্রিয়জন হারানোর বেদনা মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এমন সময় শোকাহত ব্যক্তির পাশে দাঁড়াতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন—কী বলবেন, কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন বা কীভাবে তাকে সাহায্য করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তরিক উপস্থিতি, আবেগ প্রকাশের সুযোগ এবং সহমর্মিতাই এ সময় সবচেয়ে কার্যকর সমর্থন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: সম্প্রতি পিতা-মাতাকে হারানো একজন ব্যক্তির সঙ্গে কীভাবে কথা বলা উচিত এবং কীভাবে তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করা যায়—এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিবারবিষয়ক পরামর্শক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজা ইউসুফজাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি শোকাহত ব্যক্তির পাশে আবেগগতভাবে উপস্থিত থাকা, তাকে অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া এবং আন্তরিক সহমর্মিতা প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 প্রশ্ন
আমার স্ত্রী সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনায় তার বাবা-মাকে হারিয়েছেন। আমি বুঝতে পারছি না, কীভাবে তার সঙ্গে কথা বলব। একজন শোকাহত মানুষকে কীভাবে সহায়তা করা যায়?

পরিবারবিষয়ক পরামর্শক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজা ইউসুফজাদের উত্তর
এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাদের অনেককেই হতে হয়। যখন কোনো বন্ধু, আত্মীয় বা প্রিয়জন তার আপন কাউকে হারায়, তখন আমরা প্রায়ই দ্বিধায় পড়ে যাই—কীভাবে সমবেদনা জানাব বা কীভাবে তার পাশে দাঁড়াব। এ ক্ষেত্রে শোকাহত ব্যক্তিকে সহায়তা করার জন্য তিনটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে:

১. সান্ত্বনাদায়ক উপস্থিতি
অনেক সময় শোকাহত ব্যক্তির পাশে থাকা এবং তাকে সঙ্গ দেওয়াই সবচেয়ে বড় সহায়তা। ইসলামী বর্ণনায়ও জানাজা, দাফন ও সমবেদনার সময় উপস্থিত থাকার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতাও দেখায়, আশপাশের মানুষের উপস্থিতি ও খোঁজখবর শোকাহত ব্যক্তির মনে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শোকাহত মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলবেন?

আপনার স্ত্রী যদি আগের মতো কথা বলতে বা যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী না-ও হন, তবু তার পাশে থাকা, তার হাত ধরা এবং বলা—“আমি তোমার পাশে আছি, তোমার শোকে আমিও সমভাবে ব্যথিত”—খুবই অর্থবহ হতে পারে। শোকের প্রথম দিনগুলোতে অনেক সময় কোনো বিশেষ কথা বলারও প্রয়োজন হয় না; নীরব উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হয়ে উঠতে পারে।

২. আবেগ প্রকাশের সুযোগ দিন
শোকাহত ব্যক্তি যদি কাঁদতে চান, কথা বলতে চান বা হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের স্মৃতিচারণ করতে চান, তাহলে তাকে বাধা দেবেন না।

অনেকে ভুল করে বলেন, “কেঁদো না”, “এবার থামো”, “নিজেকে সামলাও”—কিন্তু এসব কথা শোকের স্বাভাবিক প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বরং তাকে কাঁদার, কথা বলার এবং স্মৃতিগুলো ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

শোকাহত ব্যক্তি যদি তার প্রিয়জনের কথা বলেন বা পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করেন, তাহলে ধৈর্য নিয়ে শুনুন এবং তাকে সঙ্গ দিন। এতে তার অন্তর্নিহিত বেদনা ও আবেগ স্বাভাবিকভাবে প্রকাশের সুযোগ পায়, যা মানসিক ভার লাঘবে সহায়ক হয়।

৩. সহমর্মিতা প্রকাশ করুন
শোকাহত ব্যক্তির অনুভূতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন এবং তা তাকে বুঝতে দিন। আপনি বলতে পারেন:

“তুমি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছ, তা সত্যিই খুব কঠিন ও কষ্টদায়ক। তোমার এতটা কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক।”

মানুষ যখন অনুভব করে যে অন্যরা তার বেদনা বুঝতে পারছে, তখন তার মানসিক চাপ কিছুটা কমে যায় এবং সে নিজেকে একা মনে করে না। এই অনুভূতি তাকে ধীরে ধীরে মানসিক স্থিতি ফিরে পেতে সাহায্য করে।

শোকাহত মানুষকে সহায়তা করার জন্য সব সময় দীর্ঘ উপদেশ বা বড় বড় কথা বলার প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আন্তরিক উপস্থিতি, মনোযোগ দিয়ে শোনা, আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া এবং সহমর্মিতার কয়েকটি বাক্যই তার জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হয়ে উঠতে পারে। কারণ শোকের সময় মানুষ পরামর্শের চেয়ে বেশি প্রয়োজন অনুভব করে—কেউ যেন তার পাশে থাকে এবং তার বেদনা উপলব্ধি করে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha