হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আ'রাফী তাঁর বিশ্লেষণধর্মী ও কৌশলগত বার্তায় বর্তমান যুগে 'সংস্কার কামনার' সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে জ্ঞানের শীর্ষস্থান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর কর্তৃত্ব অর্জন এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও আত্মনির্ভরশীলতা বাস্তবায়নকে উল্লেখ করেছেন, যাতে ইসলামি উম্মাহ আন্তর্জাতিক চাঁদাবাজির বাঁচন থেকে মুক্তি পায় এবং শক্তির ভারসাম্য নিপীড়িতদের পক্ষে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। এই সর্বাত্মক জাগরণ আজ হোসাইনি আদর্শের বৈশ্বিক ও সর্বগ্রাসী পরিমণ্ডলে নিশ্বাস নেয় এবং উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় দ্বন্দ্ব ও গৌণ মতভেদের সীমানা অতিক্রম করে।
আয়াতুল্লাহ আ'রাফীর বার্তার আরেকটি মূলবিন্দু হলো-হোসাইনি আন্দোলনের প্রকৃত গভীরতা 'কারবালার ঘটনার সম্পূর্ণ ও কালাতীত কর্তৃত্বের ওপর উম্মাহর মৌলিক সংস্কারের বৃহৎ প্রকল্পে' প্রতিষ্ঠিত। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন: হোসাইনি আন্দোলন কখনো ক্ষমতা দখল, দলীয় স্বার্থ, গোত্রীয়, সম্প্রদায়গত বা পারিবারিক গোঁড়ামির জন্য ছিল না; বরং এটি ছিল একটি কাঠামোগত ও গভীর বিভ্রান্তির প্রতি ভাগ্যনির্ধারক প্রতিক্রিয়া, যা ইসলামের ইতিহাসের সেই মৌলিক ও প্রথম পর্যায়ে উম্মাহর পথকে পথভ্রষ্ট করছিল।
হাওজা ইলমিয়ার পরিচালক তাঁর বার্তার এক অংশে জোর দিয়ে বলেন: আমরা আজ ইরান, লেবানন ও সমগ্র আঞ্চলিক ফ্রন্টের দৃঢ়তা, প্রতিরোধ ও সংগ্রামে কারবালা ঘটনার বাস্তব মূর্তরূপ এবং জীবন্ত ধারাবাহিকতা দেখতে পাই-যা বিশ্বের নৃশংসতম হিংস্র যন্ত্রগুলোর মুখে দৃঢ়তা, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে কাজ করে; সেই ময়দানে যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব থেকে কোনো পশ্চাদপসরণ অথবা জায়নবাদী দখলদার শাসনের সাথে আপসে সম্মতি দেওয়া—যে শাসন ফিলিস্তিনের আদর্শ ধ্বংস করতে এবং আমাদের মজলুম জনগণের গণহত্যা চালাতে চায়-তা যুগের ইয়াজিদের সাথে বাইয়াতের পুনরুৎপাদন মাত্র।
আয়াতুল্লাহ আ'রাফীর বিশ্লেষণধর্মী ও কৌশলগত বার্তার সম্পূর্ণ পাঠ নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সেই প্রতিপালকের প্রশংসা ও শোকর যিনি আবারও আশুরার দিনগুলো উপলব্ধির মহান নিয়ামত আমাদের নসিব করেছেন; ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আন্দোলনের আলো, পথনির্দেশনা, অর্থ ও আধ্যাত্মিকতায় বিশ্ব ইসলামের আত্মা, বিবেক ও হৃদয়কে পবিত্র করার একটি স্বর্গীয় সুযোগ। হোসাইনি আশুরার প্রজ্ঞাপবন বইলে বিশ্বের সমস্ত স্বাধীনচেতা মানুষের প্রাণ মানবজাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সংস্কার আন্দোলনের ঘ্রাণে সিক্ত হয়ে ওঠে; সেই মহান আন্দোলন যা বর্তমান যুগের বড় বড় রূপান্তরের হৃদয়ে আমাদের পথনির্দেশনার কম্পাস।
কারবালা কখনো ৬১ হিজরির সীমানায় আবদ্ধ কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল না এবং নয়, বরং এটি আমাদের আজকের সংগ্রামের গভীরে এক সজীব ও গতিশীল ধারা, এবং শক্তির একটি উৎসারিত ঝরনা যা দিয়ে ইসলামি উম্মাহ অক্ষমতা ও নির্ভরশীলতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলে বিশ্বের বুকে নিজের মহিমা, মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে এবং ইতিহাসের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে চিৎকার করে ওঠে: "নিশ্চয় আমি তাদের সাথে শান্তিতে আছি যারা তোমাদের সাথে শান্তিতে আছে এবং তাদের সাথে যুদ্ধে আছি যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, কিয়ামতের দিন পর্যন্ত।"
১. আশুরার প্রতি দায়িত্ব-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আজ ইসলামি সমাজের বাস্তবতায় দুটি মৌলিক মাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য সংহতি প্রকাশ করে: 'শোক' ও 'মহাকাব্য'। শোক ও আবেগের মাত্রা—যা কারবালার পবিত্র রক্ত বহন করে—সমকালীন বিশ্বে মানবিক বিবেকের প্রতিরক্ষার প্রথম সারি; সেই মাত্রা যা অত্যাচার ও ধনতন্ত্রের কুৎসিত মুখোশ উন্মোচিত করে এবং বাধা দেয় যাতে মানবিক ফিতরাত জুলুমের বর্তমান অবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে তা মেনে নিতে না পারে। এই আবেগগত গভীরতা সরাসরি মহাকাব্য ও শক্তি সৃজনের মাত্রার সঙ্গে পূর্ণতা পায়; সেখানে যেখানে আমাদের আজকের ময়দানে হোসাইন (আ.) বিপ্লবী ও সভ্যতা-নির্মাতা নেতার রূপে মানবজাতির জন্য কর্তৃত্ব ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক বিকৃতির মুখে দৃঢ়তার সর্বোচ্চ আদর্শ দান করেন।
২. এই ঐতিহাসিক আমানত আজ বক্তা, গণমাধ্যম, শিল্পী ও আশুরাভিত্তিক সাহিত্যের স্রষ্টাদের কাঁধে ভারী হয়ে আছে-যেন তারা তরুণ প্রজন্ম ও বিশ্বজনমতের কাছে হোসাইন (আ.)-কে 'এক নিঃস্ব ও বিচ্ছিন্ন শহীদ' হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের স্থপতি ও নবীন সভ্যতার নকশার রূপকার হিসেবে উপস্থাপন করেন। নিষ্পেষিত রক্ত ও কারবালার ঘটনা-যেভাবে মহান চিন্তাবিদ ও বিদ্বানরা
তাদের তাৎক্ষণিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে ব্যাখ্যা করেছেন-সেটাই হলো সেই কৌশলগত শক্তি ও আন্দোলনের চালিকাশক্তি যা জালিম শাসনের বৈধতাকে ধ্বংস করে দেয়; এমন শক্তি যা বর্তমান সংগ্রাম পরিচালনা ও শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সভ্যতামূলক, মানবিক ও নৈতিক কাঠামো নির্মাণে সক্ষম।
৩. এই আন্দোলনের প্রকৃত গভীরতা নিহিত রয়েছে 'কারবালার ঘটনার পূর্ণ ও কালাতীত কর্তৃত্বের ওপর উম্মাহর মৌলিক সংস্কারের বৃহৎ প্রকল্পে'। হোসাইনি আন্দোলন কখনো ক্ষমতা দখল, দলীয় স্বার্থ, গোত্রীয়, সম্প্রদায়গত বা পারিবারিক গোঁড়ামির জন্য ছিল না; বরং এটি ছিল একটি কাঠামোগত ও গভীর বিভ্রান্তির প্রতি ভাগ্যনির্ধারক প্রতিক্রিয়া, যা ইসলামের ইতিহাসের সেই মৌলিক ও প্রথম পর্যায়ে উম্মাহর পথকে পথভ্রষ্ট করছিল। হোসাইন (আ.) একটি সংগঠিত জিনিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন যার লক্ষ্য ছিল ওহি বিলুপ্ত করা, কুরআনি মূল্যবোধ বিকৃত করা, ইসলামের কার্যকারিতাকে জীবন ও জীবনের সবক্ষেত্রে একটি ধারা ও ব্যবস্থা হিসেবে স্থগিত করা, এবং ধর্মকে তার রিসালাতের মর্মবস্তু থেকে শূন্য করে দেওয়া।
৪. এই স্পষ্ট ঐতিহাসিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে, ইমাম হোসাইন (আ.)-এর মর্যাদা, তাঁর ইমামত এবং ওহির উৎসের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক এই আন্দোলনকে একটি পরম, উচ্চতর ও নিরবচ্ছিন্ন বৈধতা প্রদান করে। এই মর্যাদা উম্মাহর জন্য হোসাইনি পথের অনুসরণকে একটি জীবনের প্রয়োজনীয়তায় পরিণত করেছে এবং প্রতিটি সমকালীন সংস্কার আন্দোলনকে-যা ইসলামি পরিচয়ের বিকৃতির মুখোমুখি হতে চায়-একটি উচ্চতর বৈধতা দান করে; সেই আন্দোলন যা তার গভীর দর্শন এই চিরন্তন বাণী থেকে গ্রহণ করে: "নিশ্চয় আমি উদ্ধত অবস্থায়, দম্ভের বশবর্তী হয়ে, বিপরীত বিক্ষিপ্তকারী হিসেবে এবং জালিম হয়ে বের হইনি; বরং আমি বের হয়েছি আমার দাদার উম্মাহতে সংস্কার কামনার জন্য।"
৫. এই সমকালীন সংস্কার আজ মানুষের মুক্তির দায়িত্ব বহন করে বৌদ্ধিক বিকৃতি ও জ্ঞান লুণ্ঠনের বন্ধন থেকে; সেই যুগে যখন পূর্ব ও পশ্চিমের মানবজাতি এক অস্তিত্বগত সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে-যেখানে বস্তুবাদী যন্ত্র মানবের পরিচয় ও মৌলিকত্বকে পিষ্ট করছে এবং বিশ্বায়ন ব্যবস্থা মানুষকে তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গভীরতা থেকে শূন্য করে দিচ্ছে। এখানেই হোসাইন (আ.)-এর কণ্ঠ ঘেরাওয়ের বলয়ের মাঝে ইতিহাসের দেয়াল ভেদ করে ডিজিটাল যুগের মানুষকে সম্বোধন করে: "যদি তোমাদের কোনো ধর্ম না থাকে এবং পরকালের ভয় না করো, তবে তোমাদের দুনিয়ায় স্বাধীন হও।" এই বাণী একটি জীবন্ত দলিল যা মানবজাতির অভিন্ন শিকড় ও ফিতরাতের সঙ্গে কথা বলে; আজকের মানুষকে ভোগবাদী চক্রের মধ্যে বিকৃত হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং ন্যায় ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে লাভলিপ্ত গণনা ও চরম উদারতাবাদের বস্তুবাদী শূন্যতার ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত করে।
৬. এই অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক-আন্দোলন ও সমকালীন বাস্তবতার-তার মানে হলো, আশুরার মহান বাণীসমূহ উম্মাহর কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোর প্রত্যক্ষ চালিকাশক্তি ও উদ্দীপক। যখন আমরা ইতিহাসের মর্যাদাকামী সেই আর্তনাদের প্রতিধ্বনি শুনি: "জেনে রেখো, ব্যভিচারজাত দুষ্টের সন্তান আমাদের সামনে দুটি পথের রেখেছে-তরবারির ধার অপমানের মাঝে; কিন্তু আমাদের কাছে অপমান কখনো গ্রহণযোগ্য নয়," তার ভূরাজনৈতিক ও বাস্তব অনুবাদ আজকের ময়দানে হলো কর্তৃত্ব ও নব্য উপনিবেশবাদের চূড়ান্ত অস্বীকার। আমরা আজ ইরান, লেবানন ও সমগ্র আঞ্চলিক ফ্রন্টের দৃঢ়তা, প্রতিরোধ ও সংগ্রামে কারবালা ঘটনার বাস্তব মূর্তরূপ এবং জীবন্ত ধারাবাহিকতা দেখতে পাই—যা বিশ্বের নৃশংসতম হিংস্র যন্ত্রগুলোর মুখে দৃঢ়তা, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে কাজ করে; সেই ময়দানে যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব থেকে কোনো পশ্চাদপসরণ অথবা জায়নবাদী দখলদার শাসনের সাথে আপসে সম্মতি দেওয়া-যে শাসন ফিলিস্তিনের আদর্শ ধ্বংস করতে এবং আমাদের মজলুম জনগণের গণহত্যা চালাতে চায়-তা যুগের ইয়াজিদের সাথে বাইয়াতের পুনরুৎপাদন মাত্র। আজকের বিশ্বে 'আমি আল্লাহ ও তোমাদের কাছে তাদের থেকে, তাদের অনুসারী ও সমর্থকদের থেকে বিমুক্ত' এই অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন হলো প্রতিরোধ নেটওয়ার্কগুলোর পূর্ণ সমর্থন এবং পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাসের সুরক্ষা-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অর্জনের জন্য।
৭. এই পথের ধারাবাহিকতায়, আমাদের বৈজ্ঞানিক ও সভ্যতামূলক লড়াইয়ে আশুরার সংস্কার প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা হলো জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত ব্যবধান পূরণ করা; কেননা বর্তমান যুগে 'সংস্কার কামনার' সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো জ্ঞানের শীর্ষস্থান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর কর্তৃত্ব এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও আত্মনির্ভরশীলতা বাস্তবায়ন-যাতে ইসলামি উম্মাহ আন্তর্জাতিক চাঁদাবাজির বাঁচন থেকে মুক্তি পায় এবং নিপীড়িতদের পক্ষে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। এই সর্বাত্মক জাগরণ আজ হোসাইনি আদর্শের বৈশ্বিক ও সর্বগ্রাসী পরিমণ্ডলে নিশ্বাস নেয় এবং উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় দ্বন্দ্ব ও গৌণ মতভেদের সীমানা অতিক্রম করে;
কেননা হোসাইন (আ.) যখন বেরিয়েছিলেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য চলেননি, বরং উম্মাহর সংস্কার ও মানবতার মুক্তি এবং কুরআন ও সুন্নাহর সুদৃঢ় বাণীর ওপর ভর করে কিয়াম করেছিলেন।
৮. এই জ্ঞানগত জাগরণ আজ আমাদের আহ্বান জানায় 'ধর্ম ও সমাজের প্রতি সুশৃঙ্খল ও কাঠামোগত দৃষ্টিভঙ্গি' সক্রিয় করতে-যাতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্বারা নকশা করা ধর্মীয় ফেতনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রকল্পগুলো ব্যর্থ করে দেওয়া যায় এবং সভ্যতাগত প্রতিরোধের একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট খোলা যায় যা ইসলামের অস্তিত্ব ও জাতিসমূহের ফিতরাতভিত্তিক পরিচয় সংরক্ষণের জন্য গৌণ মতভেদ অতিক্রম করে। এখানেই অভিজাত, হাওজা ইলমিয়া ও বিশ্ব ইসলামের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব ইমাম হোসাইন (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক আহ্বানের সাথে যুক্ত হয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন: "আছে কি কোন সাহায্যকারী যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের সাহায্য করবে? আছে কি কোন রক্ষাকারী যে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর হারামের সুরক্ষা করবে?" এই আহ্বান একটি জীবন্ত, সমকালীন ও নিরবচ্ছিন্ন ডাক; ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকৃতি, নিপীড়িত জাতিসমূহের গণহত্যা ও যুবসমাজ থেকে সচেতনতা মুছে ফেলার ক্ষেত্রে উম্মাহর অভিজাতদের নীরবতা ৬১ হিজরির বাইয়াত ভঙ্গকারীদের সুখসন্ধানীর সাথে বাস্তবিক মিল। আজকের বিশ্বে আল্লাহর সাহায্য কেবল সাহসী বক্তৃতা, 'ব্যাখ্যার জিহাদ' এবং মিথ্যার গণমাধ্যম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার মাধ্যমেই অর্জিত হবে।
৯. এই আশুরাভিত্তিক ও সভ্যতামূলক ইশতেহার প্রচারের মাধ্যমে আমরা দৃঢ় প্রত্যয় পোষণ করি যে, ইসলামি উম্মাহ তার বস্তুগত সম্পদে বা তার অসাধারণ মানবসম্পদে কোনো ঘাটতির সম্মুখীন নয়; বরং আজ বিশ্ব ইসলাম সেই পোলাদিন হোসাইনি ইচ্ছাশক্তি ও জ্ঞানগত প্রজ্ঞার সক্রিয়তার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করে এবং ইতিহাসকে পুনর্লিখন করে। নিপীড়িতদের বিজয় ও বিদ্রোহ ও বস্তুবাদের আসন ধ্বংসে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি চূড়ান্ত; আশা করা যায় এই আশুরার মওসুম আমাদের জন্য সভ্যতার 'কর্তৃত্ব ও অগ্রদূত হওয়ার' দিকে একটি স্থির পদক্ষেপ এবং মানবিক ফিতরাত ও বিবেকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিশ্বব্যাপী মডেল উপস্থাপনের মাধ্যম হবে।
আর সালাম হোসাইন (আ.)-এর ওপর, এবং আলী ইবনে হোসাইন (আ.)-এর ওপর, এবং হোসাইন (আ.)-এর সন্তানদের ওপর, এবং স্বাধীনচেতা হোসাইনের সাহাবিদের ওপর।
আলিরেজা আ'রাফী
হাওজা ইলমিয়ার পরিচালক
আপনার কমেন্ট