বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬ - ২২:০২
লেবাননের মুসলিম উলামা পরিষদ:

লেবাননের শিয়া-সুন্নি আলেমদের সংগঠন মুসলিম উলামা পরিষদ এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, ইরান এ যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি চুক্তিতে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিকে কেন্দ্র করে লেবাননের মুসলিম উলামা সমাবেশ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রমাণ করেছে যে, এটি একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র, যা জায়নবাদী-আমেরিকান আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট সব সংকট সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। এ আগ্রাসনের মধ্যে মহান নেতৃবৃন্দের শাহাদাত, যার মধ্যে শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহ উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)-এর শাহাদাত এবং ইরানজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ধ্বংসাত্মক বোমা হামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এত কিছুর পরও ইরান এ যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি চুক্তিতে তার শর্তসমূহ মেনে নিতে বাধ্য করেছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। এ বিষয়টি চুক্তিতে তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে। এটি লেবাননের প্রতি ইরানের আন্তরিক বন্ধুত্ব এবং নিজ প্রতিশ্রুতির প্রতি অটল থাকার প্রমাণ বহন করে। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপ লেবাননের সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো লেবাননিদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা যুদ্ধের হুমকির মধ্যে নয়, বরং যুদ্ধবিরতির পরিবেশে আলোচনা-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

মুসলিম উলামা সমাবেশ আরও ঘোষণা করেছে:
প্রথমত: লেবাননের মুসলিম উলামা সমাবেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, মুসলিম উম্মাহর নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ী, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং এ চুক্তি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা সকল ব্যক্তির প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।

দ্বিতীয়ত: জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে এবং এ বিজয়কে শহীদ, আহত এবং মুজাহিদদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফল বলে অভিহিত করছে। মহান আল্লাহর অনুগ্রহের পর এ বিজয়ের প্রধান কৃতিত্ব তাদেরই প্রাপ্য।

তৃতীয়ত: লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন তারা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করে। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে পরোক্ষ সংলাপে ফিরে যাওয়া এবং সব ধরনের বৈরিতার অবসান ও পাঁচ দফা দাবির বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চতুর্থত: লেবাননের সরকারকে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে জাতীয় সংলাপকে সমর্থন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এমন একটি অবস্থান, যা সেনাবাহিনী, জনগণ এবং প্রতিরোধের ‘স্বর্ণত্রয়ী’ নীতির কার্যকারিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

পঞ্চমত: ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, তারা যেন সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত থাকে এবং যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে জায়নবাদী শত্রু যেন সামরিক অগ্রযাত্রা বা নতুন বাস্তবতা সৃষ্টির সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে ২ মার্চ-পূর্ব পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha