হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা, কেওটশাহ (পশ্চিম বঙ্গ, ভারত): কারবালার ময়দানে ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের শাহাদাতের শোক ও বেদনা মুসলিম উম্মাহকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। সেই শোককে বাঙালি মুসলিম সমাজও নিজের করে নেয় প্রতিবছর। তেমনই এক আয়োজন দেখা গেল কেওটশাহ ইমাম বাড়িতে। আজ দুপুরে কারবালার শহীদদের স্মরণে এক বিশাল মাতামের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজারো আজাদার (শোক পালনকারী) অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় পরিবেশনা ও বক্তৃতার জন্য দুটি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম মজলিসটি পবিত্র কুরআন ও আহলে বাইতের আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট বক্তা জনাব মাওলানা জয়নুল ইসলাম সাহেব।
দ্বিতীয় মজলিসে ইমাম হুসাইনের আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তার তাৎপর্য তুলে ধরেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা হায়দার আলী সাহেব কিবলা। তাঁর বক্তব্যে কারবালার চেতনা ও ন্যায়ের প্রতি অটল থাকার আহ্বান বিশেষভাবে উপস্থিতদের মনে দাগ কাটে।
মজলিস শেষে এক বিশাল জুলুস-ই-আজা (শোক শোভাযাত্রা) বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কেওটশাহ মেইন রোড এবং পাকা ইন্দিরা হয়ে বিভিন্ন গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। পথে পথে আজাদারা বুক ফাটানো মাতাম ও নওহা পাঠ করে শহীদদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুরো পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে ভরপুর।
উল্লেখ্য, কেওটশাহ ইমাম বাড়ির এই আয়োজনে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের আঞ্জুমান (সংগঠন) একত্রিত হয়ে অংশ নেয়। তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি কারবালার বার্তাকে আরও মজবুত করে তোলে-যেন প্রতিটি হৃদয়ে ধ্বনিত হয় “হায় হায় হুসাইন!”। সামগ্রিকভাবে, এই মাতাম ও জুলুস মানুষকে আত্মত্যাগ ও সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছে বলেই উপস্থিতদের অভিমত।
আপনার কমেন্ট