শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ - ২০:৫২
যদি ইমাম হুসাইন (আ.) ইয়াজিদের কাছে বাইআত করতেন, তাহলে কী হতো?

ইমাম হুসাইন (আ.)-এর অনুসারীর দায়িত্ব কেবল নিজের ব্যক্তিগত মুক্তি বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় জীবন রক্ষা করা নয়; বরং সমাজে ইসলাম ও তার আদর্শের সংরক্ষণেও সচেতন থাকা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: প্রয়াত আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদি তাঁর এক বক্তৃতায় ইমাম হুসাইন (আ.) কেন ইয়াজিদের সঙ্গে বাইআত করেননি—এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “ইমাম হুসাইন (আ.)-এর একজন অনুসারী শুধু নিজের ধর্মীয় জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে পারে না; সমাজের ধর্মীয় অবস্থা ও ইসলামের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও তার দায়িত্ব রয়েছে।

ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ব্যক্তিগত ঈমান বা ধর্মীয় অবস্থান কোনো সংকটের মুখে ছিল না। প্রকৃত বিপদ ছিল সমাজে ইসলামের অস্তিত্ব, তার মূল্যবোধ এবং সঠিক চেতনার টিকে থাকা।

যদি ইমাম হুসাইন (আ.) ইয়াজিদের সঙ্গে বাইআত করতেন এবং কারবালার আত্মত্যাগের পথ বেছে না নিতেন, তবে সে সময়কার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ইসলাম ধীরে ধীরে তার মৌলিক আদর্শ ও চেতনাকে হারিয়ে ফেলত। হয়তো এক বা দুই প্রজন্মের মধ্যেই ইসলামের কেবল নামটুকুই অবশিষ্ট থাকত।

এই পরিস্থিতিতে ইমাম হুসাইন (আ.) উপলব্ধি করেছিলেন যে, ইসলামের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য তাঁকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হবে। ইতিহাসে খুব কমই এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অল্পসংখ্যক মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগ একটি ধর্ম, আদর্শ বা সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষায় নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কারবালার ঘটনা এবং ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর অল্পসংখ্যক সঙ্গীর আত্মদান ছিল তেমনই এক বিরল ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।

এই আত্মত্যাগের ফলেই সমাজে এক গভীর পরিবর্তনের সূচনা হয়। মানুষ উদাসীনতা ও অচেতনতার ঘোর থেকে জেগে ওঠে এবং ইসলামের পুনর্জাগরণ ও স্থায়িত্বের পথ সুদৃঢ় হয়।”

জানহা ফিদায়ে দ্বীন (ধর্মের জন্য জীবন উৎসর্গ), পৃষ্ঠা ৫০–৫১

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha