হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আলে খলিফা প্রশাসন আশুরার জনসমাবেশকে ‘নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ আখ্যা দিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন শিয়া নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ করে, বিশিষ্ট ধর্মীয় বক্তা, শোকগাথা পরিবেশনকারী (মাদ্দাহ) এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের টার্গেট করে পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল গ্রেপ্তারই নয়; বরং বহু ভাষ্যকার ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে আশুরার বিশেষ মজলিস ও মিছিলে অংশগ্রহণে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার তলব, জিজ্ঞাসাবাদ এবং হুমকি দেওয়ার পর এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনী আশুরার প্রতীকী শোকযাত্রা ভণ্ডুল করতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অংশগ্রহণকারীদের আটক এবং ধর্মীয় সমাবেশে কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। শিয়া ধর্মীয় নেতাদের অভিযোগ, এটি যেন আশুরার আচার-আনুষ্ঠানিকতাকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা। তাঁরা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে পদদলিত করে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে বাহরাইনের শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্য ও দমন-পীড়নের অভিযোগ থাকলেও এবারের আশুরার সময় সেই দমননীতি আরও চরম রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও স্থানীয় প্রশাসন দাবি করছে, এসব পদক্ষেপ জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়; কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই গ্রেপ্তার ও নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
বাহরাইনের শাসকের এই জঘন্য পদক্ষেপ ও তার প্রতি সরকারের পক্ষপাতমূলক অবস্থান উপসাগরীয় অঞ্চলে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের সূচনা করেছে। আশুরার পবিত্রতা ও শোকের এই দিনগুলোতে নিপীড়নের ঘটনা আন্তর্জাতিক মুসলিম উম্মাহর কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনার কমেন্ট