সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬ - ১১:৩৫
প্রয়াত ইমাম ও ‘শহীদ ইমাম’ হাওজা ইলমিয়ারই শিক্ষার্থী ছিলেন

কোমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসলামী বিপ্লবের অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে হাওজা ইলমিয়ার উচ্চ মর্যাদার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিয়া হাওজা ইলমিয়াগুলোর, বিশেষ করে কোমের হাওজা ইলমিয়ার সবচেয়ে বড় গৌরব হলো-এটি ইমাম খোমেনি (রহ.) এবং ‘শহীদ নেতা’র মতো ব্যক্তিত্বদের গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মাহমুদ মোহাম্মদী ইরাকি, হজরত ফাতিমা মাসুমা (আ.)-এর পবিত্র মাজারের ইমাম খোমেনি (রহ.) শাবেস্তানে অনুষ্ঠিত ‘শহীদ ইমাম’-এর স্মরণসভা শেষে ‘হাওজা’ সংবাদ সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, শিয়া হাওজা ইলমিয়াগুলো, বিশেষ করে কুমের হাওজা ইলমিয়া ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠা ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, শিয়া হাওজা ইলমিয়ার, বিশেষত কোমের হাওজা ইলমিয়ার সবচেয়ে বড় গর্ব হলো-এটি ইমাম খোমেনি (রহ.) এবং ‘শহীদ নেতা’ গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ীর মতো ব্যক্তিত্বদের গড়ে তুলেছে। এটি ইসলামের ইতিহাস ও ইসলামী বিপ্লবের ধারায় হাওজার গভীর প্রভাবের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ নেতা’ হাওজা প্রতিষ্ঠানকে অত্যন্ত গভীর দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করতেন। তাঁর বক্তব্য ও ভাষণগুলো, বিশেষ করে কুমে তাঁর ১১ দিনের সফরের বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি হাওজা ইলমিয়াকে ইসলামী বিপ্লবের ‘জননী’ এবং বিপ্লবের উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হাওজাকে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং ইসলামী আন্দোলনের মূল শিকড় হিসেবে বিবেচনা করতেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ নেতা’ প্রদত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তায়, যা ‘অগ্রণী ও আদর্শ হাওজা’ নামে পরিচিত, বর্তমান শতাব্দী ও সমসাময়িক পরিস্থিতিতে হাওজা ইলমিয়ার প্রতি কী কী প্রত্যাশা থাকা উচিত, তা তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তিনি নতুন যুগে হাওজার দায়িত্ব ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন ও যুগোপযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের (মাজলিসে খোবরেগান) সদস্য বলেন, সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের পর সমাজ ও রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। তাঁর মতে, এই ঘটনার পর হাওজা ইলমিয়ার দায়িত্ব কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, এই মহান রক্ত আমাদের, বিশেষ করে তালাবা (ধর্মীয় শিক্ষার্থী)দের ওপর এমন এক দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যার যথাযথ হক আদায় করার জন্য আমাদের আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে এবং হজরত মাসুমা (আ.)-এর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। আমাদের তাঁর পথ অব্যাহত রাখতে হবে এবং তাঁর বার্তা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় হাওজাকে জনগণের আশ্রয়স্থল এবং আশার উৎস হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি ‘শহীদ ইমাম’-এর কার্যালয়ের একজন সেবক হিসেবে মহান মারজা-এ-তাকলিদ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, আলেম, শিক্ষক, গবেষক এবং তরুণ তালাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করি।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন অনেককে চিনি, যারা এই দিনগুলোতে রাত-দিন নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তারা রাত জেগে দেশের শহর ও গ্রামে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা, ইসলামী বিপ্লব এবং আমাদের ‘শহীদ নেতা’র প্রতি আনুগত্য থেকে সেবা দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং বিশেষভাবে সম্মান পাওয়ার যোগ্য।

শেষে তিনি সকল দাঈ ও বিপ্লবের সেবকদের জন্য দোয়া করে আশা প্রকাশ করেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই যেন এই বড় পরীক্ষায় সম্মানের সঙ্গে উত্তীর্ণ হতে পারি এবং আহলে বাইত (আ.)-এর আদর্শ প্রচার ও শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হই।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha