হাওজা নিউজ এজেন্সি: এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধ’ শুরুর পর থেকে বাহরাইন সরকার শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ আরও জোরদার করেছে।
তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ শাইখ ঈসা কাসেম এবং অন্যান্য বিশিষ্ট আলেমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে শাইখ ঈসা কাসেম ও অন্যান্য শিয়া আলেমের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে ইরানের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর অজুহাতে বাহরাইনের শিয়া জনগোষ্ঠী, আলেম, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয় মুছে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব পদক্ষেপ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ এবং মানবিক ও ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিপ্লবী শক্তিগুলো জানায়, ৫ জুলাই (১৪০৫ হিজরি শামসি সালের ১৪ তির) শুরু হওয়া বিচারপ্রক্রিয়ায় ৫০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট আলেম, হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষক এবং জুমার খতিব ও জামাতের ইমামদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাদের দাবি, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া এবং ইরানের প্রতি সমর্থন ও বাহরাইনের জনগণের যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই বিচার পরিচালিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই বিচার বাহরাইনের শিয়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারের দীর্ঘদিনের দমননীতিরই ধারাবাহিকতা, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনকে আরও গভীর করছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার দ্রুত এমন এক বিপজ্জনক পথের দিকে এগোচ্ছে, যার পরিণতির সম্পূর্ণ দায়ভার শেষ পর্যন্ত সরকারকেই বহন করতে হবে।
বিবৃতিতে বন্দি আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ‘জাতির মর্যাদা ও পরিচয়ের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তারা সবসময় জাতীয় ঐক্য, দেশের স্বকীয় পরিচয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
বাহরাইনের বিপ্লবী শক্তিগুলো সরকারের প্রতি অবিলম্বে বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করা, সব অভিযোগ প্রত্যাহার করা এবং সকল আলেম ও রাজনৈতিক বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনগণ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে দমননীতি বন্ধ করা, বাহরাইনকে আঞ্চলিক সামরিক জোটে সম্পৃক্ত না করা এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার ও দাবির প্রতি সম্মান জানানোরও আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, সরকারের দমন-পীড়ন, তাদের ভাষায় ‘গণবিধ্বংসী নীতি’ এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তা বাহরাইনের জনগণের প্রতিরোধ এবং নিজেদের পরিচয়, অস্তিত্ব ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।
আপনার কমেন্ট