হাওজা নিউজ এজেন্সি: পরিবারবিষয়ক পরামর্শক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজা ইউসুফজাদেহ ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সুদৃঢ় করা’ শীর্ষক এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে, যেখানে একজন স্বামী জানান যে তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেন এবং পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতি রাখেন না, তবুও স্ত্রী অভিযোগ করেন যে তিনি পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেন না—পরামর্শক বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অনেক কর্মজীবী পরিবারের জন্যই পরিচিত।
তাঁর মতে, অনেক পুরুষ পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব পালনকেই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রধান প্রকাশ হিসেবে মনে করেন। অন্যদিকে, অনেক নারী একসঙ্গে সময় কাটানো, আন্তরিক কথোপকথন এবং মানসিক উপস্থিতিকে দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন। এই ভিন্ন প্রত্যাশা থেকেই অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, কর্মদিবস শেষে অনেক পুরুষ বাড়িকে বিশ্রামের স্থান হিসেবে ভাবেন। বিপরীতে, অনেক নারীর কাছে পরিবারের সবাই একত্র হওয়ার সময়টিই পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং আবেগগত সান্নিধ্যের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাই উভয়েরই একে অপরের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
পরামর্শকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী যখন বলেন, ‘তুমি আমাকে সময় দাও না’, তখন অনেক ক্ষেত্রেই তা অভিযোগ নয়; বরং আরও বেশি মনোযোগ ও সান্নিধ্যের প্রত্যাশার প্রকাশ।
তিনি পরামর্শ দেন, দোষারোপ বা তিরস্কারের পরিবর্তে নিজের চাহিদা স্পষ্ট, আন্তরিক ও সম্মানজনক ভাষায় প্রকাশ করা উচিত। যেমন, ‘তুমি কখনোই আমাকে সময় দাও না’ বলার পরিবর্তে ‘আমি চাই আমরা কিছু সময় একসঙ্গে কাটাই’—এভাবে বললে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
একইভাবে, ‘তুমি আমাকে ধন্যবাদ দাও না’ বলার পরিবর্তে ‘তোমার কৃতজ্ঞতার প্রকাশ আমাকে আনন্দ দেয়’—এ ধরনের ইতিবাচক ভাষা পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রেজা ইউসুফজাদেহর মতে, অধিকাংশ মানুষই পরিবারে নিজেদের মূল্যায়িত ও গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুভব করতে চান। তাই নিয়মিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পরস্পরের অবদানের স্বীকৃতি সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
তিনি কর্মজীবী স্বামীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শও দেন। তাঁর মতে, কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সম্পূর্ণভাবে সঙ্গীর জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। এ সময় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না থেকে একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং আন্তরিকভাবে সময় কাটানো সম্পর্কের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পরামর্শকের মতে, প্রতিদিনের এই স্বল্প সময়ের আন্তরিক যোগাযোগ দাম্পত্য সম্পর্কে মানসিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, ভুল বোঝাবুঝি কমায় এবং পারিবারিক পরিবেশকে আরও শান্ত, ইতিবাচক ও স্থিতিশীল করে তুলতে সহায়তা করে।
আপনার কমেন্ট