হাওজা নিউজ এজেন্সি: শিশু ও কিশোর মনোবিজ্ঞানী হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. মাজিদ হেম্মতি লালন-পালনের কৌশলকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন—
১. নির্দেশমূলক কৌশল (তাজভীজ): কী করতে হবে তা বলে দেওয়া।
২. নিষেধমূলক কৌশল (তাহরীম): কী করা যাবে না, সে সম্পর্কে সতর্ক করা।
৩. পরিকল্পনাভিত্তিক কৌশল: শিশুর আচরণ পরিবর্তনের জন্য সুপরিকল্পিত ও ধৈর্যশীল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।
ড. হেম্মতির মতে, লালন-পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তৃতীয় পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। তিনি বলেন, শুধু শিশুকে ‘এটা করো’ বা ‘ওটা করো না’ বললে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায় না। কারণ, এ ধরনের নির্দেশনা সমস্যার মূল কারণকে স্পর্শ করে না। এটি সবচেয়ে সহজ উপায় হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা খুবই সীমিত।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, পরিকল্পনাভিত্তিক লালন-পালনের প্রথম ধাপ হলো শিশুর আচরণের পেছনের কারণগুলো শনাক্ত করা। কোনো আচরণ হঠাৎ সৃষ্টি হয় না; এর পেছনে পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক চাহিদা, অভ্যাস, বন্ধুবান্ধব কিংবা অন্যান্য নানা প্রভাব কাজ করতে পারে। তাই প্রথমেই এসব কারণ বুঝতে হবে এবং যথাসম্ভব দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে শিশুর জন্য এমন একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সে কাঙ্ক্ষিত আচরণ অনুশীলনের সুযোগ পায়। এরপর তার প্রতিটি ভালো আচরণকে উৎসাহ, প্রশংসা ও ইতিবাচক প্রণোদনার মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবক বা শিক্ষকের উচিত ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা; কারণ আচরণগত পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে আসে না, বরং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
ড. হেম্মতির মতে, সফল লালন-পালনের মূল রহস্য হলো—আদেশ দেওয়া নয়, বরং শিশুর জন্য এমন একটি পরিবেশ ও পরিকল্পনা তৈরি করা, যাতে সে নিজেই সঠিক আচরণ শেখে এবং তা অভ্যাসে পরিণত করতে পারে। ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং ইতিবাচক উৎসাহের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিশুর মধ্যে একটি সুস্থ, ইতিবাচক ও স্থায়ী আচরণ গড়ে তোলা সম্ভব।
আপনার কমেন্ট