হাওজা নিউজ এজেন্সি: ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা এবং কুরআন-হাদিসভিত্তিক ধারণার পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় সমাজকে কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত এমন সব সত্য সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, যেগুলো বস্তুবাদী হিসাব-নিকাশ এবং পশ্চিমা বস্তুবাদী চিন্তাধারার প্রভাবে গড়ে ওঠা মানসিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বস্তুবাদী চিন্তার বিপরীতে ঐশী সত্য সম্পর্কে অবস্থান নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা
হুজ্জাতুল ইসলাম আব্বাসি-ওয়ালাদি বলেন, আমাদের একবারের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে—কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত এবং জাগতিক ‘দুই আর দুইয়ে চার’ ধরনের হিসাব-নিকাশ কিংবা পশ্চিমা বস্তুবাদী চিন্তাধারায় নির্মিত মানসিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমরা কী করব। আমরা কি এগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরব, নাকি সহজেই উপেক্ষা করব? নাকি এগুলোকে প্রান্তিক করে রেখে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই করব না?
তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের যে ধর্মীয় কাহিনিগুলো শোনানো হয়, সেখানে কি এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে? নাকি তাদের ১৩, ১৪ বা ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সম্পূর্ণ বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বেড়ে উঠতে দিয়ে পরে এসব বিষয়ে আলোচনা শুরু করা হবে? তাঁর মতে, এ বিষয়ে ধর্মীয় সমাজের সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা জরুরি।
অদৃশ্য জগতের বাস্তবতাকে উপেক্ষার পরিণতি
তিনি বলেন, যদি এসব বিষয় বিশ্বজগতের বাস্তব সত্য হয় এবং প্রকৃতপক্ষে সেই বাস্তবতার মৌলিক অংশ হয়ে থাকে, অথচ আমাদের জীবন ও চিন্তায় সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে প্রান্তিক করে রাখা হয়, তাহলে তা আমাদের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটি।
তাঁর ভাষায়, যতদিন এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট না হবে এবং এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নির্ধারিত না হবে, ততদিন শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, সামাজিক জীবনেও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
নেতৃত্বের চিন্তাধারা একটি প্রতিষ্ঠানের চরিত্র নির্ধারণ করে
তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি যখন কোনো পরিবার, সামরিক প্রতিষ্ঠান, বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসেন, তখন তাঁর চিন্তাধারাই সেই প্রতিষ্ঠানের নীতি ও কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অদৃশ্য জগত ও আল্লাহর ঐশী সাহায্যকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও এ বিষয়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে না। কারণ নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে।
সাংস্কৃতিক সংগ্রামে বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির চ্যালেঞ্জ
জনাব আব্বাসি-ওয়ালাদি বলেন, যদি এমন কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা হয়, যার কাজ শত্রুর বিরুদ্ধে নরম যুদ্ধের (সফট ওয়ার) সম্মুখসারিতে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম পরিচালনা করা, অথচ তার সব পরিকল্পনা, কৌশল ও সিদ্ধান্ত কেবল ‘দুই আর দুইয়ে চার’ ধরনের বস্তুবাদী হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, তাহলে সেই সংগ্রামও বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়টি গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। কারণ প্রত্যেকে যে পরিমাণে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, সে পরিমাণেই অন্যদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখেন এবং তাদের চিন্তা ও কর্মপথ নির্ধারণ করেন। এমনকি সেই প্রভাবের ক্ষেত্র যদি একটি ছোট পরিবারও হয়, তবুও এর গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়।
আপনার কমেন্ট