রবিবার ১৯ জুলাই ২০২৬ - ১২:৫১
স্বামী/স্ত্রী ঘরে ও সবার সামনে সম্মান করেন না—কী করবেন?

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ত্রাশিয়ুন বলেছেন, দাম্পত্য জীবনে জনসমক্ষে বা পারিবারিক পরিসরে একজনের প্রতি অন্যজনের অসম্মানজনক আচরণের পেছনে অনেক সময় অতীতে জমে থাকা অমীমাংসিত অভিমান ও ক্ষোভ কাজ করে। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে হলে কেবল সঙ্গীর আচরণ নয়, নিজের আচরণও আত্মসমালোচনার দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: দাম্পত্য জীবনের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো—অন্যদের উপস্থিতিতে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা। এ প্রসঙ্গে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ত্রাশিয়ুন বলেন, স্বামী-স্ত্রীর উচিত নিজেদের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে একে অপরের কাছে তুলে ধরা। পাশাপাশি তিনি ‘গোপন অভিমান’ (অমীমাংসিত ক্ষোভ)-কে পারিবারিক পরিবেশে প্রতিশোধমূলক কথাবার্তা ও আচরণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রশ্ন
আমার স্বামী/স্ত্রী ঘরে এবং আত্মীয়-স্বজনের সামনে আমাকে যথাযথ সম্মান করেন না। এতে আমি খুব কষ্ট পাই। এ অবস্থায় আমার কী করা উচিত?

উত্তর
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ত্রাশিয়ুন বলেন, ব্যক্তিগত পরিসর হোক বা সবার সামনে—দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে হলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

১. প্রত্যাশার কথা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে
অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী বলেন, "আমি যদি জানতাম এই আচরণে সে কষ্ট পাবে, তাহলে এমন করতাম না।" অর্থাৎ, অনেক ভুল বোঝাবুঝির কারণই হলো প্রত্যাশা স্পষ্ট না করা।

তাই কোন আচরণ আপনাকে আনন্দ দেয়, কোন বিষয় আপনাকে কষ্ট দেয় এবং আত্মীয়-স্বজন বা অন্যদের সামনে আপনি কী ধরনের সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন—এসব বিষয় খোলামেলাভাবে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। নিজের পরিবারের সদস্যদের সামনে হোক বা শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের উপস্থিতিতে—আপনার কাছে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিন এবং সেগুলো মেনে চলার অনুরোধ করুন।

২. 'গোপন অভিমান' অনেক সমস্যার মূল
তিনি বলেন, অনেক সময় একজন মানুষ সঙ্গীর কোনো আচরণে মনে কষ্ট পান, কিন্তু তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করেন না। সেই চাপা ক্ষোভ পরবর্তীতে অন্যভাবে প্রকাশ পায়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ধরুন, স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে এলে স্বামী তাদের প্রতি আন্তরিকতা দেখান না। বাইরে থেকে এটি সাধারণ ঘটনা মনে হলেও এর পেছনে হয়তো আগের কোনো অভিমান কাজ করছে। তিনি মনে মনে ভাবছেন, "আজ তুমি কষ্ট পেলে, একদিন তুমিও আমার আচরণে কষ্ট পাবে।" এটাই হলো 'গোপন অভিমান'।

আবার এমনও হতে পারে, একজন স্বামী আশা করেন তাঁর স্ত্রী ব্যক্তিগত জীবন ও জনসমক্ষে তাঁর প্রতি স্নেহপূর্ণ ও সম্মানজনক আচরণ করবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে, অমীমাংসিত অভিমান থেকেই তিনি স্ত্রীর সঙ্গে অন্যদের সামনে রূঢ় বা অসম্মানজনক আচরণ করতে শুরু করেন।

কখনো বিষয়টি আবেগের নয়; বরং আচরণগত। স্বামী বা স্ত্রী একজন আরেকজনের কাছ থেকে কিছু নির্দিষ্ট আচরণ প্রত্যাশা করেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে ক্ষোভ জমতে থাকে এবং একসময় তা কথাবার্তা বা আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

জনাব ত্রাশিয়ুন বলেন, আমরা সাধারণত সঙ্গীর ছোটখাটো ভুল সহজেই দেখতে পাই, কিন্তু খুব কমই নিজেদের কাছে প্রশ্ন করি—আমার কোনো আচরণ কি তার এই প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে?

তাই কেবল সঙ্গীর ভুল নিয়ে অভিযোগ না করে নিজের আচরণও পর্যালোচনা করা জরুরি। কোন আচরণগুলো সঙ্গীকে কষ্ট দিচ্ছে এবং যার ফলে তিনি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন—সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।

৩. নিজের আচরণও সম্মান আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
জনাব ত্রাশিয়ুন আরও বলেন, মানুষের সম্মান অনেকাংশেই তার নিজের আচরণের ওপর নির্ভর করে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো স্ত্রী যদি পারিবারিক বা সামাজিক পরিবেশে শালীনতা, সংযম ও সৌজন্য বজায় রাখেন, অতিথিদের সঙ্গে মার্জিত আচরণ করেন এবং নিজের কথাবার্তায় ভারসাম্য রক্ষা করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর স্বামীও তাঁর প্রতি আরও সম্মানজনক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ হন।

একই কথা স্বামীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একজন স্বামী যদি নিজের আচরণে ভদ্রতা, সংযম ও মর্যাদাবোধের পরিচয় দেন, তবে স্ত্রীর পক্ষেও তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সহজ হয়।

তিনি উপসংহারে বলেন, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সম্মান কেবল দাবি করে আদায় করা যায় না; বরং খোলামেলা যোগাযোগ, আত্মসমালোচনা এবং নিজের আচরণে শালীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখার মাধ্যমেই তা দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha