হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামী চিন্তাবিদ ও পারিবারিক বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম রেজা ইউসুফজাদেহ বলেছেন, দাম্পত্য জীবনে অভিমানকে স্থান না দিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধৈর্য ও খোলামেলা সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
প্রশ্ন: আমার স্বামীর কিছু আচরণে আমি প্রায়ই হতাশ হয়ে পড়ি। কারণ, আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে সব সময় আমাকেই আগে এগিয়ে গিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হয়। অথচ আমি চাই, কখনো কখনো তিনিও নিজ থেকে মান-অভিমান ভাঙানোর উদ্যোগ নিন। এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়?
উত্তর: হুজ্জাতুল ইসলাম রেজা ইউসুফজাদেহ বলেন, পারিবারিক জীবনের ভিত্তি হলো ভালোবাসা, মমতা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাই এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা এই বন্ধনকে দুর্বল করে। তাঁর মতে, দাম্পত্য জীবনের অন্যতম বড় ভুল হলো অভিমান করে সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া বা কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া।
তিনি বলেন, অভিমান শুধু নীরবতা নয়; এটি অপর পক্ষের কাছে একটি বেদনাদায়ক বার্তা পৌঁছে দেয়—‘আমাদের সম্পর্কের চেয়ে এই বিরোধই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ এমন অনুভূতি ধীরে ধীরে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি আরও বলেন, আসল বিষয় এটি নয় যে কে আগে এগিয়ে এসে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে বা কে আগে ক্ষমা চাইবে। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো, অভিমান যেন সম্পর্কের মধ্যে স্থায়ী জায়গা করে নিতে না পারে। ইসলামী বর্ণনায়ও দীর্ঘ সময় সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রাখার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। এমনকি তিন দিনের বেশি অভিমান করে দূরে থাকার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইউসুফজাদেহর মতে, দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী উভয়ের। তাই একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে না দিয়ে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি নীতি গ্রহণ করা উচিত—“আমরা কখনো অভিমানকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেব না।”
তিনি বলেন, মনোমালিন্য হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে আবেগ প্রশমিত হলে শান্ত পরিবেশে বসে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। সেই আলোচনায় দোষারোপ, অপমান, বিদ্রূপ বা একে অপরকে হেয় করার পরিবর্তে সম্মান, ধৈর্য ও সহমর্মিতার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মতবিরোধ নিরসনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শান্ত, সম্মানজনক ও আন্তরিক সংলাপ। এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়, পারস্পরিক আস্থা ফিরে আসে এবং দাম্পত্য জীবন আরও দৃঢ়, স্থিতিশীল ও সুখময় হয়ে ওঠে।
সবশেষে তিনি দম্পতিদের উদ্দেশে বলেন, দাম্পত্য জীবনে জয়-পরাজয়ের কোনো প্রশ্ন নেই; বরং সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাই অভিমানকে নয়, ভালোবাসা, ক্ষমাশীলতা এবং আন্তরিক সংলাপকেই দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।
আপনার কমেন্ট