সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ - ১৭:০৩
শহীদ ইমাম ইসলামী বিশ্বের জন্য মর্যাদা বয়ে এনেছেন

আফগানিস্তানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর বলেন: শহীদ ইমাম এমন একজন আত্মোৎসর্গকারী মুজাহিদ ছিলেন, যিনি ইসলামী বিশ্ব ও মানবতার জন্য সম্মান, স্বাধীনতা, মহত্ত্ব ও গৌরব ফিরিয়ে এনেছেন এবং সচেতনতা, বিশ্বাস ও আগ্রহের সঙ্গে শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘দৃঢ় পরিবার, শক্তিশালী সমাজ; পরিবার সুদৃঢ়করণে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন মাজার-ই-শরিফে অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী চিন্তাধারায় নারী ও পরিবারের অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং শহীদ ইমামের চিন্তাধারায় নারীর মর্যাদাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষিত নারী, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, কবি ও কুরআন বিষয়ক কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর সৈয়দ রুহুল্লাহ হুসাইনি, মাজার-ই-শরিফে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল হামিদরেজা আহমাদি এবং তাঁর সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আফগানিস্তানের বিভিন্ন জ্ঞানী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর হুসাইনি ইসলামী চিন্তাধারায় নারীর অবস্থান সম্পর্কে বলেন:
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষিত নারীদের জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও সক্রিয় উপস্থিতি মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতার বিষয়।

তিনি আফগান নারীদের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেন:
এমন গুণী নারীদের উপস্থিতির কারণে আফগানিস্তানের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। নতুন ইসলামী সভ্যতা গঠনে এ দেশের নারীরা কার্যকর ও স্থায়ী ভূমিকা পালন করবেন।

ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর শহীদ ইমামের পরিবার ও সমাজ সম্পর্কিত চিন্তাধারার মূলনীতি ব্যাখ্যা করে বলেন:
তিনি পরিবার ও সমাজকে উন্নতি ও অগ্রগতির দুটি মৌলিক স্তম্ভ মনে করতেন। সমাজের দৃঢ়তা পরিবারের মধ্য থেকেই শুরু হয় এবং নারী-কন্যা, স্ত্রী ও মা-এই তিন ভূমিকায় পরিবারের ভিত্তি সুদৃঢ় করার মূল কেন্দ্র।

ইসলামী চিন্তায় নারীর মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেন:
নারীর মূল্য ও সম্মান একটি ঐশ্বরিক সত্য। ইসলাম নারীর প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, যা সম্মান, পরিচয় ও মানবিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি চরমপন্থী বা অবহেলামূলক ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

শহীদ ইমামের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে হুসাইনি বলেন:
শহীদ ইমাম এমন একজন আত্মোৎসর্গকারী মুজাহিদ ছিলেন, যিনি ইসলামী বিশ্ব ও মানবতার জন্য সম্মান, স্বাধীনতা, মহত্ত্ব ও গৌরব ফিরিয়ে এনেছেন এবং সচেতনতা, ঈমান ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন।

তিনি আরও বলেন:
শাহাদাতের পর শহীদ ইমামের ব্যক্তিত্ব ও চিন্তার প্রভাব মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে আগের চেয়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে। জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি ইসলামী উম্মাহর গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ছিল।

ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর নারী ও পরিবার সম্পর্কে শহীদ ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে বলেন:
নারীর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কুরআনভিত্তিক, মর্যাদাকেন্দ্রিক ও সভ্যতা নির্মাণমূলক। তাঁর বাস্তব জীবনের আচরণেও তিনি নারীদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও মর্যাদা প্রদর্শন করেছেন।

তিনি কুরআনের আয়াত-আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন’-এর উল্লেখ করে বলেন, ভালোবাসা ও দয়া পারিবারিক জীবনের ভিত্তি। এছাড়া ‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, দয়াময় আল্লাহ তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন’-এই আয়াতের আলোকে তিনি বলেন, আল্লাহ নেক বান্দাদের প্রতি মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করেন। তাঁর মতে, বর্তমান যুগে শহীদ ইমাম হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনি এই আয়াতের একটি পূর্ণাঙ্গ উদাহরণ।

পরবর্তী অংশে হুসাইনি আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমুলির রচিত ‘নারী: ঐশ্বরিক সৌন্দর্য ও মহিমার আয়নায়’ গ্রন্থের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ইসলামী চিন্তায় নারীর অবস্থান বোঝার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তিনি বলেন:
‘কুরআনের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ মানবিক সত্তা ও ঐশ্বরিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে সমান। পার্থক্য কেবল প্রাকৃতিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে।‘

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে হাসনিয়া ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রের উপ-পরিচালক ফাতেমা হুসাইনি সূরা রূমের ২১ নম্বর আয়াতের আলোকে পরিবারকে সমাজের সবচেয়ে মৌলিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শান্তি, ভালোবাসা, দয়া, সৎ প্রজন্ম গঠন এবং পরিবারের ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নারী ও মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha