হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপানের দেশপ্রেমিক সমিতি (ইসোকাই)-এর সভাপতি কিমুরা মিৎসুহিরো আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ গবেষণা কেন্দ্র’-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানো এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভবের কথা উল্লেখ করে এশীয় দেশগুলোর স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একমেরুকেন্দ্রিক আধিপত্য ভেঙে পড়ছে
মিৎসুহিরো বলেন, বিশ্ব বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক ও রূপান্তরমূলক সময় অতিক্রম করছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একমেরুকেন্দ্রিক আধিপত্যের কাঠামো ভেঙে পড়ছে এবং এর পরিবর্তে একটি নতুন বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে।
তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপমূলক নীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় হামলা, যেমন লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ-বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায়—তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।‘
জাপানের দেশপ্রেমিক সমিতির সভাপতি পশ্চিমা জোট ও উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো)-এর বর্তমান সংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ন্যাটোকে একসময় ‘মস্তিষ্ক-মৃত’ সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণ রক্ষার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এশিয়ায় শান্তির ভিত্তি ইরান, রাশিয়া, তুরস্ক ও চীন
মিৎসুহিরো আটলান্টিকভিত্তিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ইউরেশীয় শক্তির উত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ইরান, তুরস্ক, রাশিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে বিশ্বের স্বাধীনচেতা ও সচেতন মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
জাপান থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জাপানের নির্ভরশীলতার সমালোচনা করে মিৎসুহিরো দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসানের দাবি জানান।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপান যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর একটি কাঠামোর মধ্যে প্রবেশ করে। আমরা জাপান থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অপসারণের দাবি জানাই এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে এশিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানাই।
পূর্বের প্রজ্ঞার পুনর্জাগরণের সময় এসেছে
মিৎসুহিরো আশা প্রকাশ করেন যে, ১৮ ও ১৯ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ গবেষণা কেন্দ্র’-এর সম্মেলন ন্যাটোবিরোধী প্রবণতাকে শক্তিশালী করবে এবং প্রাচ্যে একটি নতুন সভ্যতার বিকাশের পথ সুগম করবে। তিনি মানবসভ্যতায় তুরস্ক ও জাপানের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে তিনি জার্মান চিন্তাবিদ অসভাল্ড স্পেংলারের ‘পশ্চিমের পতন’ তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, শোষণভিত্তিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা, যা মানুষের আত্মিক অবক্ষয় ও সামাজিক কাঠামোর ভাঙনের কারণ হয়েছে, এতদিন কেবল সামরিক শক্তি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে টিকে ছিল। কিন্তু এখন এই ব্যবস্থার পতনের সময় এসে গেছে। আজ প্রকৃত পূর্বের প্রজ্ঞা এবং এশিয়ার ঐক্য ও সমন্বয়ের সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার সময়।
আপনার কমেন্ট