শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬ - ১৫:০৪
কেন খুমস আদায় অন্যান্য দান-সদকার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

খুমস আদায় কেবল একটি আর্থিক দায়িত্ব নয়; এটি আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং মুমিনের সঙ্গে ইমামে যামান (আ.)-এর সম্পর্কের এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ। সাহমে ইমাম (ইমামের অংশ) ও সাহমে সাদাত (সায়্যিদদের অংশ)—এই দুই অংশ নিয়ে গঠিত খুমসের বিধান ইমামের কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের জন্য নির্ধারিত হয়নি; বরং আল্লাহর দ্বীনের সহায়তা, সম্পদের পবিত্রতা এবং মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধির উদ্দেশ্যেই এ বিধান প্রবর্তিত হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শরিয়তের বিধান, বিশেষ করে সম্পদ ও আর্থিক অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাসআলা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন আত্মশুদ্ধি এবং ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত। এ ক্ষেত্রে খুমস, বিশেষত সাহমে ইমাম, 'বেলায়েত'-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এবং মুমিনের আত্মিক বিকাশে এর বিশেষ ভূমিকার কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাহমে ইমাম (ইমামের অংশ)
ইমামে যামান (আ.ফা.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি দায়িত্ব হলো খুমস আদায়। খুমসের অর্ধেক সাহমে ইমাম (ইমামের অংশ) এবং অপর অর্ধেক সাহমে সাদাত (সাইয়্যেদদের অংশ)।

আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ইমামের আমাদের সাহায্যের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের পক্ষ থেকে এই সাহায্য অনেকটা সেরকমই, যেমন পরম অমুখাপেক্ষী আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনের সাহায্য করার জন্য আমাদের আহ্বান করেন। অথচ তিনি নিজেই কারও মুখাপেক্ষী নন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

ان تنصروا الله ینصر کم

যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন। (সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭:৭)

আবার তিনি বলেন—

من ذا الذی یقرض الله قرضا حسنا.

কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? (সূরা আল-বাকারা, ২:২৪৫)

আল্লাহ তাআলা অমুখাপেক্ষী, আর আমরা তাঁরই মুখাপেক্ষী। তবুও তিনি এ ভাষায় আমাদের সম্বোধন করেছেন, যাতে আমাদের আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক বিকাশ সাধিত হয়। একইভাবে, আমরা ইমামের জন্য খুমস প্রদান করি আমাদের নিজেদের আত্মিক পরিশুদ্ধি ও চরিত্র গঠনের উদ্দেশ্যে।

ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) বলেছেন, তোমার ইমামের জন্য ব্যয় করা এক দিরহাম, অন্য যেকোনো কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা বিশ লক্ষ দিরহামের চেয়েও উত্তম ও অধিক মর্যাদাপূর্ণ! (আল-কাফি, খণ্ড ১, পৃ. ৫৩৮)

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। খুমসের অর্ধাংশকে সাহমে ইমাম বলা কেবল নামমাত্র বা রূপক অর্থে নয়; বরং শরয়ি দৃষ্টিতে এ অংশ প্রকৃত অর্থেই ইমামের সম্পত্তি। তাই এতে অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা ইমামে যামান (আ.)-এর সম্পদে হস্তক্ষেপের শামিল।

এছাড়া, কোনো ব্যক্তি তার সম্পদের খুমস আদায় না করা পর্যন্ত সেই সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, যদিও তার ইচ্ছা থাকে পরে খুমস আদায় করবে। তবে কোনো সম্পদের খুমস পূর্বেই আদায় করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে সেই সম্পদ ব্যবহার করা বৈধ।

খুমস সম্পর্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
খুমস—অর্থাৎ দুই মুবারক অংশ (সাহমে ইমাম ও সাহমে সাদাত)—মওকুফ বা কাউকে দান করা যায় না। তাই কেউ খুমস অন্য কাউকে উপহার বা দান হিসেবে প্রদান করতে পারে না।

যাকাতের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই কোনো দ্বীনদার দরিদ্রকে তা প্রদান করতে পারেন। কিন্তু খুমসের ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। খুমস অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মারজায়ে তাকলিদের কার্যালয় অথবা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধি (ওয়াকিল)-এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এমনকি কেউ যদি খুমস গ্রহণের উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে চিনেও থাকেন, তবুও তিনি নিজ উদ্যোগে সরাসরি তাকে খুমস প্রদান করতে পারবেন না। বরং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মারজায়ে তাকলিদের কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে তা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

সূত্র: উফুকে খানেওয়াদে (افق خانواده) সাময়িকী।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha