হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিপ্লবী যুব জোটের রাজনৈতিক পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, আল খলিফা শাসনব্যবস্থা বিদেশি ঔপনিবেশিক শক্তির ওপর নির্ভর করে এবং বাহরাইনকে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে পরিণত করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। বরং এ ধরনের নীতির ফলে জনগণের মধ্যে এই শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আরও জোরালো হবে।
জোটের সাপ্তাহিক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান তার আইনসম্মত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করার পরিপ্রেক্ষিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বাহরাইনের বিপ্লবী দল ও সমাজের বিভিন্ন অংশের অভিন্ন অবস্থান হলো-আল খলিফা সরকারের বিদেশি শক্তিনির্ভর নীতি দেশের কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনগণ আল খলিফা শাসকদের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার থেকে সরে আসবে না। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জন্য বাহরাইনের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে সরকার দেশকে একটি আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, যার অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিণতি হবে অত্যন্ত গুরুতর।
জোট দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এখন জাতীয়, ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের সময়। তাদের ভাষায়, দেশের শাসক হামাদকে ‘থামানো’ এবং দেশকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা জনগণের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকারী বিদেশি সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতির সঙ্গে কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে আল খলিফা সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের নীতির বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্ত অবস্থান গ্রহণ না করায় সরকার আরও সাহসী হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করা হয়।
জোটের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে আল খলিফা সরকার বাহরাইনের জনগণ, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয় ও অস্তিত্বের বিরুদ্ধে নতুন দমনমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, কারাবন্দী ধর্মীয় আলেমদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা শাসক হামাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ বহন করে।
এতে আরও বলা হয়, ধর্মীয় আলেমদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নির্যাতন, অপমান, বিচার বা মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি জনগণের ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের শামিল। তবে এসব পদক্ষেপ জনগণকে ভীত বা আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে না; বরং তাদের বিশ্বাস, পরিচয় এবং সংগ্রামী আলেমদের প্রতি আনুগত্য আরও দৃঢ় করবে। জোট জানায়, তারা আল খলিফা শাসনের বিরোধিতা অব্যাহত রাখবে এবং এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবিতে অটল থাকবে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, শাসক হামাদের নেতৃত্বে বাহরাইনের শিয়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তার অংশ হিসেবে আহলে বাইতের (আ.) অনুসারীদের আরবাঈনের জিয়ারতে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি, বিধিনিষেধ আরোপ এবং নাগরিকদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জোটের দাবি, এসব পদক্ষেপ সরকারের প্রতিশোধপরায়ণ নীতির বহিঃপ্রকাশ এবং বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দমনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশিষ্ট আলেম আয়াতুল্লাহ শেখ ঈসা কাসেম এ পরিস্থিতিকে বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘গুরুতর অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আপনার কমেন্ট