রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬ - ১৬:১৬
‘আরবাইনের পথ’ আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ বিস্তারের উচ্চ সম্ভাবনা রাখে

ইসলামী সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার ধর্মীয় সংলাপ কেন্দ্রের ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদি ধর্ম বিভাগের প্রধান বলেছেন: ইমাম হুসাইনের (আ.) শাহাদাতের আরবাইন উপলক্ষে বিশেষ তীর্থপথগুলোতে আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ বিস্তারের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটির ধর্ম ও সংস্কৃতি সংলাপ কেন্দ্রের ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদি ধর্ম বিভাগের প্রধান হায়দে রুস্তমাবাদি এক সাক্ষাৎকারে বলেন: আরবাইনের পদযাত্রার পথ সংস্কৃতি ও ধর্মীয় শিক্ষার, অর্থাৎ ঐতিহ্যসমূহের আদান-প্রদানের জন্য একটি বিশেষ ক্ষেত্র। এই সক্ষমতাকে যদি যথাযথভাবে পরিচিত করা যায় এবং এই আধ্যাত্মিক পথের যাত্রীদের মধ্যে বিনিময় করা যায়, তাহলে এটি একটি বিশাল সম্ভাবনায় পরিণত হবে।

এটি শুধু এই পথের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যোগাযোগকে শক্তিশালী করবে না; বরং পারস্পরিক যোগাযোগের স্তর অতিক্রম করে ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বিশ্ব সমাজে পারস্পরিক চিন্তা ও সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

এই ধর্মবিষয়ক গবেষক প্রথমে ‘আরবাইন পদযাত্রা’-কে ইসলামী বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন: ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের আরবাইনের প্রাক্কালে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ জিয়ারতকারী অংশগ্রহণ করেন। নাজাফ থেকে কারবালার পবিত্র নগরী পর্যন্ত এই তীর্থযাত্রা ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ পদযাত্রা।

তিনি খ্রিস্টানদের মধ্যে ‘সেন্ট জেমসের পথ’ নামে পরিচিত তীর্থপদযাত্রার পরিচয় তুলে ধরে বলেন: খ্রিস্টান জগতে এবং ক্যাথলিক ঐতিহ্যে ‘সেন্ট জেমসের পথ’ অন্যতম তীর্থ পদযাত্রা। নির্দিষ্ট সময়ের পাশাপাশি সারা বছরও তীর্থযাত্রীরা এই পথে পদযাত্রা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন: নতুন নিয়মের বর্ণনা অনুযায়ী, সেন্ট জেমস বা ইয়াকুব জেবেদি ছিলেন হযরত ঈসা (আ.)-এর বারোজন শিষ্যের একজন।

তিনি সুসমাচারের বার্তা বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে স্পেনে পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে তিনি জেরুজালেমে নির্যাতিত হয়ে শহীদ হন। পরে তাঁর দেহাবশেষ স্পেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলার গির্জায় সমাহিত করা হয়।

রুস্তমাবাদি আরও বলেন: এই পদযাত্রার সূচনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও স্পেনের প্রতিবেশী অঞ্চল থেকে হয় এবং এর সমাপ্তি ঘটে স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলা শহরে। এই শহরে রয়েছে প্রাচীন ক্যাথেড্রাল এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্যতম শিষ্য পবিত্র জেমসের সমাধি।

ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদি ধর্ম বিভাগের প্রধান আরও উল্লেখ করেন: তীর্থপথগুলো একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে আন্তঃসাংস্কৃতিক ও আন্তঃধর্মীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব পথে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মূল আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যের পাশাপাশি-যার অন্যতম বিষয় ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম উভয় ক্ষেত্রেই ‘শাফাআত’ বা সুপারিশের মাধ্যমে পাপ ক্ষমার আশা-আরও বহু ধরনের সুযোগ ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

তিনি বলেন: আরবাইনের পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ইমাম হুসাইন (আ.)-কে আল্লাহর দরবারে সুপারিশের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে তাঁর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা কামনা করেন। ইসলামী বর্ণনায় দেখা যায়, একজন জিয়ারতকারী এই পথে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর থেকেই সওয়াব লাভ ও পাপ মোচনের অন্তর্ভুক্ত হন।

তিনি আরও বলেন: খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যেও অনুরূপভাবে পাপ ক্ষমার ধারণা পাওয়া যায়। সেখানে ‘সেন্ট জেমসের পথ’-এ অংশগ্রহণকারী খ্রিস্টান তীর্থযাত্রী পবিত্র জেমসের কাছে সুপারিশ, অনুগ্রহ লাভ এবং পাপ ক্ষমার আবেদন করেন।

এই কারণেই দেখা যায়, তীর্থপথগুলো ধর্মীয় মূল্যবোধের আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম। আর এ ক্ষেত্রেই এর একটি উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha