সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬ - ১৫:৫৪
তৌরাত এবং মৃতের জন্য ক্রন্দন নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান ও হুকুম

মহানবীর (সা.) ওফাতের ঠিক পাঁচ দশকের মধ্যেই হযরত আলী (আ.), ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইনের (আ.) শাহাদাত ও কারবালায় মহাবিপর্যয় ও ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয় তথাকথিত অজ্ঞ পথভ্রষ্ট ধ্বংস প্রাপ্ত উম্মতের হাতে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্ব ৩(১)

হাদীস চর্চা, বর্ণনা, পঠন পাঠান, লিখন ও সংকলনে নিষেধাজ্ঞার করুণ ও ভয়াবহ পরিণতি মুসলিম উম্মাহর ধ্বংস প্রাপ্তি (هلکة الأمة المسلمة), হযরত আলী(আ.), হযরত ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইনের (আ.) শাহাদাত এবং কারবালায় আশুরার দিবসে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড: হাদীস চর্চা ও বর্ণনা কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মহানবীর (সা.) ওফাতের ঠিক পাঁচ দশকের মধ্যেই  হযরত আলী (আ.), ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইনের (আ.) শাহাদাত ও কারবালায় মহাবিপর্যয় ও ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয় তথাকথিত অজ্ঞ পথভ্রষ্ট ধ্বংস প্রাপ্ত উম্মতের হাতে।

হযরত রাসূলুল্লাহর (সা.) পবিত্র সুন্নাহ ও হাদীস চর্চা, বর্ণনা, পঠনপাঠন, লিখন ও সংকলন নিষিদ্ধ রাখার কারণে মহানবীর (সা.) ওফাতের পর ঠিক ৩০ বছরের মধ্যেই ইসলামের চিরশত্রু তুলাকা (মহানবী-সা- কর্তৃক মক্কা বিজয়ের দিন সাধারণ ক্ষমা ও মুক্তি প্রাপ্ত) বনী উমাইয়ার দু:শাসন, খিলাফত ও শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং তারা যে উম্মাতকে ধ্বংস করবে সে সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মহানবী (সা.) স্বয়ং নিজেই।

যেমন: সাঈদ আল উমাভী বলেন:আমি মারওয়ান ও আবূ হুরায়রার সাথে ছিলাম। অত:পর আমি আবূ হুরায়রাকে বলতে শুনলাম: আমি সাদিক্ব মাসদূক্ব্কে (সত্যায়িত অর্থাৎ পরম সত্যবাদী মহানবী-সা-) বলতে শুনেছি:  আমার উম্মতের ধ্বংস কুরাইশ গোত্রের কতিপয় অল্প বয়স্ক যুবকের হাতে!!!" অত:পর মারওয়ান জিজ্ঞেস করল: কতিপয় অল্প বয়স্ক যুবক (غلمة)? হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বললেন:"যদি তুমি চাও যে আমি তাদের নাম বলে দেই যে তারা অমুক এবং অমুকের পুত্রসন্তান (তাহলে আমি তা বলতে পারব)। (দ্রঃ সহীহুল বুখারী,হাদীস নং ৩৬০৫,পৃ:৮৮১)

حدثتا أحمد بن محمد المكي ،حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد الأموي عن جده قال: كنت مع مروان و أبي هريرة فسمعت أبا هريرة يقول:سمعت الصادق المصدوق يقول:هلاك أمتي على يدي غلمة من قريش.فقال مروان:غلمة؟قال أبو هريرة:إن شئت أن أسميهم بني فلان و بني فلان.

আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ বলেন: আমার দাদা (সাঈদ) আমাকে জানিয়েছেন: আমি মদীনায় আবূ হুরায়রার সাথে মসজিদে নববীতে উপবিষ্ট ছিলাম এবং আমাদের সাথে মারওয়ানও ছিল। আবূ হুরায়রা বললেন: আমি সাদিক্ব্ মাসদূক্ব্কে (সা.) বলতে শুনেছি: আমার উম্মতের ধ্বংস কুরাইশ গোত্রের কতিপয় অল্প বয়স্ক যুবকের হাতে। অত:পর মারওয়ান বলল: তাদের ওপর আল্লাহর লা'নত ঐ কতিপয় অল্প বয়স্ক যুবক। অত:পর আবূ হুরায়রা বললেন: যদি তুমি চাও যে আমি বলে দেই তারা অমুক অমুকের সন্তান তাহলে আমি তা করতে পারি। অত:পর আমি (আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আমর ইবনে সাঈদ) আমার দাদার সাথে বনী মারওয়ান শামের শাসন কর্তৃত্ব হস্তগত করলে তাদের কাছে যেতাম।

অত:পর তিনি (আমরের দাদা সাঈদ) তাদেরকে অল্প বয়স্ক যুবক দেখতে পেয়ে আমাদেরকে বললেন: এরা (এ সব অল্প বয়স্ক যুবক) খুব সম্ভবতঃ তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে ((যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ -সা- বলেছিলেন: আমার উম্মতের ধ্বংস কুরাইশ গোত্রের কতিপয় অল্প বয়স্ক যুবকের হাতে।)) আমরা তখন বললাম: আপনি সবচেয়ে বেশি জানেন। (দ্র: সহীহ আল-বুখারী, হাদীস নং ৭০৫৮,পৃ:১৭৭৪-১৭৭৫)

حدثنا موسى بن إسماعيل،حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد بن عمرو بن سعيد قال أخبرني جدي قال:كنت جالساً مع أبي هريرة في مسجد النبي بالمدينة و معنا مروانُ٫قال أبو هريرة: سمعت الصادق المصدوق يقول:هلاكة أمتي علىٰ يدي غلمة من قريش فقال مروان:لعنة الله عليهم غلمة،فقال أبو هريرة:لو شئت أن أقول بني فلان و بني فلان لفعلتُ.فکنت أخرج مع جدي إلىٰ بني مروان حين ملكوا بالشام،فإذا رآهم غلماناً أحداثاً قال لها عسىٰ هؤلاء أن يكونوا منهم،قلنا:أنت أعلم.

সুতরাং সহীহ আল-বুখারীর এ দুই হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে মুসলিম উম্মাহর ধ্বংস কারীরা হচ্ছে বনী উমাইয়ার খলীফা ও শাসকগণ যারা ছিল অল্প বয়স্ক যুবক। এদের হাতেই কারবালার মহা বিপর্যয় ও ট্র্যাজেডি ঘটে রাসূলুল্লাহর (সা.) ওফাতের ঠিক ৫০ বছর পর যা ছিল আসলেই উম্মতের জন্য মহা ফাসাদ (অবক্ষয় ও ধ্বংস) ও চরম ব্যর্থতা (ফাসাদুল উম্মাহ ও ফাশালুহা فساد الأمة و فشلها)।

আর উম্মত তখন বেহেশতের যুবকদের নেতা সাইয়েদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইনকে (আ.) সাহায্য করা থেকে বিরত ও নির্বিকার ছিল বরং যালেম বনী উমাইয়ার শাসনকর্তৃত্ব মেনে নিয়েছিল। বেহেশতের যুবকদের নেতাকে সাহায্য না করে ধ্বংস প্রাপ্ত উম্মত কোন্ বেহেশতের প্রত্যাশা করেছিল তখন যার যুবকদের নেতা ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন হবেন না? এমন বেহেশত আছে কি? এ ধরণের বেহেশত আসলে নরক ও দোযখ ছাড়া আর কিছু কি? আর উম্মত কেন ধ্বংস হবে না?

রাসূলুল্লাহর (সা.) ওফাতের পর পরই প্রথম ও দ্বিতীয় খলীফা কর্তৃক মহানবীর (সা.) সুন্নাহ ও হাদীস চর্চা, বর্ণনা, পঠনপাঠন, লিখন, সংরক্ষণ ও সংকলন নিষিদ্ধ করা হলে এ নিষেধাজ্ঞা ১০০ বছর পর্যন্ত বা এরও বেশি স্থায়ী হয়েছিল। [[আর ১৫০ হিজরীতেও ইমাম আবু হানীফার মৃত্যু পর্যন্ত হাদীস সংকলিত কিংবা সহীহ (তাসহীহ্ تصحیح ) করা হয় নি (দ্রঃ ইসলামী আইন,পৃ:১৬)।]]

এই শতাধিক কালে বনী উমাইয়া খিলাফতের পৃষ্ঠপোষকতা ও তত্ত্বাবধানে আসল খাঁটি সহীহ (বিশুদ্ধ) হাদীস ও সুন্নাহর স্থলে জাল বানোয়াট ভুয়া মিথ্যা হাদীস দিয়ে পুরো মুসলিম বিশ্ব ও সমাজ ভরে ও সয়লাব হয়ে গিয়েছিল বিধায় মুসলিম উম্মাহ কার্যতঃ ধ্বংসই হয়ে গিয়েছিল।

চলবে…

ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha