শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১০:০৫
জীবনের শেষ নামাজ মনে করে প্রতিটি নামাজ আদায় করুন

নামাজ হলো বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম সম্পর্কের অন্যতম মাধ্যম। তাই প্রতিটি নামাজ এমন মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে আদায় করা উচিত, যেন এটিই জীবনের শেষ নামাজ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইমাম সাদিক (আ.)-এর একটি হাদিসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ খামেনেয়ী (রহ.) নামাজের গুরুত্ব ও তা আদায়ের বিশেষ আদব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

ইমাম সাদিক (আ.) বলেন:

  إِذَا صَلَّیْتَ صَلَاةَ فَرِیضَةٍ لِوَقْتِهَا، فَصَلِّهَا صَلَاةَ مُوَدِّعٍ یَخَافُ أَنْ لَا یَعُودَ إِلَیْهَا أَبَدًا.

“যখন তুমি কোনো ফরজ নামাজ তার নির্ধারিত সময়ে আদায় করবে, তখন এমনভাবে নামাজ পড়ো, যেন এটি তোমার জীবনের শেষ নামাজ। এমন একজনের মতো নামাজ পড়ো, যে আশঙ্কা করে—এরপর আর কখনো নামাজ পড়ার সুযোগ নাও হতে পারে।”

হাদিসে ‘لِوَقْتِهَا’ বলতে নামাজকে তার ফজিলতের সময়ে আদায় করাকে বোঝানো হয়েছে।

আর নামাজকে এমনভাবে আদায় করতে বলা হয়েছে, যেন আমরা এর মাধ্যমে বিদায় নিচ্ছি—অর্থাৎ মনে করতে হবে, এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ নামাজ।

আমরা যদি এখন জোহরের নামাজ আদায় করি, তাহলে কি এমন সম্ভাবনা নেই যে এটিই আমাদের জীবনের শেষ নামাজ? এই সম্ভাবনাকে একেবারেই তুচ্ছ মনে করার কারণ নেই।

অনেক মানুষ বসে কথা বলছিলেন কিংবা আড্ডা দিচ্ছিলেন; সেখানেই হজরত আজরাইল (আ.) এসে তাঁদের রূহ কবজ করেছেন। কেউ মিম্বরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, আবার কেউ খাবারের দস্তরখানে বসেছিলেন। অর্থাৎ আমরা দিন-রাত যে বিভিন্ন অবস্থায় জীবনযাপন করি, সেসবের যেকোনো অবস্থাতেই মৃত্যুর আগমন ঘটতে পারে। তাই মৃত্যুর সম্ভাবনাকে কখনোই দূরের বিষয় মনে করা উচিত নয়।

কারও যদি এমন সৌভাগ্য হয় যে, নামাজরত অবস্থায় তার মৃত্যু আসে, তবে তা অত্যন্ত সুন্দর পরিণতি। এর বিপরীতে, কেউ যদি আল্লাহর অবাধ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এমন পরিণতি থেকে রক্ষা করুন।

সুতরাং, যেহেতু মৃত্যু যেকোনো মুহূর্তে এসে যেতে পারে, তাই আমাদের উচিত প্রতিটি নামাজ এমন আন্তরিকতা, বিনয় ও মনোযোগের সঙ্গে আদায় করা, যেন এটিই আমাদের জীবনের শেষ নামাজ এবং এরপর আর কখনো নামাজ পড়ার সুযোগ হবে না।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha