হাওজা নিউজ এজেন্সি: আরবাঈন হুসাইনিকে কেন্দ্র করে শহীদ ইমাম হযরত আয়াতুল্লাহিল উযমা সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)-এর ধারাবাহিক বক্তব্য থেকে আরবাঈনের তাৎপর্য ও বার্তা নিয়ে তাঁর একটি বক্তব্যের অংশ এখানে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
যে আত্মত্যাগ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতের ধারাকে অম্লান রেখেছে
“আপনাদের এই শহীদগণ, যারা এ সময় দেশের বাইরে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ সেইসব মানুষের আত্মত্যাগেরই ধারাবাহিকতা, যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে হযরত আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাজারকে রক্ষা করেছিলেন।
এক সময় আব্বাসীয় খলিফারা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছিল ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র কবর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পবিত্র মাজারও ধ্বংস করে দিতে। কিন্তু একদল ঈমানদীপ্ত মানুষ নিজেদের জীবন বাজি রেখে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন।
তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, ‘যদি তোমরা সেখানে যাও, তবে তোমাদের হাত কেটে ফেলা হবে, পা কেটে ফেলা হবে, এমনকি হত্যা করা হবে।’ কিন্তু এসব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে তারা জিয়ারতে গিয়েছিলেন।
সেই আত্মত্যাগেরই ধারাবাহিক ফল আজকের আরবাঈনের মহাসমাবেশ। যদি তখন সেই মানুষগুলো আত্মত্যাগ না করতেন, তবে আজ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসার এই মহিমা, এই বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও আকর্ষণ আমরা প্রত্যক্ষ করতাম না।
আজ আরবাঈনের পদযাত্রায় বিশ্বের নানা দেশ থেকে মানুষ অংশ নেন—ফারসি, তুর্কি ও উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও অসংখ্য মানুষ সেখানে উপস্থিত হন।
এই মহৎ আন্দোলনের ভিত্তি কে স্থাপন করেছিলেন? এর প্রথম ও মৌলিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন সেইসব মানুষ, যারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারতের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।”
সূত্র: শহীদ ইমাম হযরত আয়াতুল্লাহিল উযমা সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)-এর ৩০ অক্টোবর ২০১৮ (৩০ মেহর ১৩৯৭ শামসি) তারিখে হারামের রক্ষক (মুদাফিয়ে হারাম) শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে প্রদত্ত বক্তব্য।
আপনার কমেন্ট