হাওজা নিউজ এজেন্সি: ‘আরবাঈনের পদযাত্রার অলৌকিকতা’ শীর্ষক এক বক্তব্যে আয়াতুল্লাহিল উযমা ওয়াহিদ খোরাসানি বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতের প্রকৃত মর্যাদা কেবল তাঁর পবিত্র মাযার জিয়ারত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁর প্রতি গভীর আকুলতা এবং আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি নিখাদ ভালোবাসার মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
তিনি বলেন, “ধন্য সেই জিয়ারতকারীরা, যারা এ পথের কষ্টকে আনন্দের সঙ্গে বরণ করে নেন। তাঁরা আরাম-আয়েশের কথা ভাবেন না, দিন-রাতের ক্লান্তিকেও গুরুত্ব দেন না। তাঁরাই সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসে দুটি মৌলিক শর্তের কথা বলা হয়েছে।
প্রথম শর্ত: «شَوْقًا إِلَى الْحُسَيْنِ (ع)»—অর্থাৎ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি এমন গভীর আকুলতা, যা মানুষকে তাঁর পবিত্র মাযারের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয় শর্ত: «حُبًّا»—অর্থাৎ ভালোবাসা। তবে এই ভালোবাসা হতে হবে রাসুলুল্লাহ (সা.), আমিরুল মুমিনীন ইমাম আলী (আ.) এবং হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর প্রতি।
তিনি বলেন, “যদি কেউ এই আকুলতা ও ভালোবাসা নিয়ে সেই মজলুম ইমামের জিয়ারত করে, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে, ‘তুমি ওই তিন মহান ব্যক্তিত্বের সঙ্গেই থাকো।’ এরপর ইমাম জাফর সাদিক (আ.) আবু বাছির (রহ.)-কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘হে আবু বাছির! এরা স্বয়ং খাতামুন নাবিয়্যীন (সা.)-এর সঙ্গে একই দস্তরখানে থাকবে, আর সে সময় মাহশারের অনেক মানুষ শাস্তি ভোগে নিমজ্জিত থাকবে।’”
সবশেষে তিনি আরবাঈনের পদযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “ধন্য এ পদযাত্রীরা। আমরা আশা করি, আরবাঈনের দিন-রাতে সেই পবিত্র স্থানে—যেখানে হাদিসে বলা হয়েছে, «اَلْإِجَابَةُ تَحْتَ قُبَّتِهِ» (তাঁর পবিত্র গম্বুজের নিচে দোয়া কবুল হয়)—তাঁরা আল্লাহর দরবারে হাত তুলে এ দোয়া পাঠ করবেন,
اللّٰهُمَّ أَرِنِي الطَّلْعَةَ الرَّشِيدَةَ وَالْغُرَّةَ الْحَمِيدَةَ
‘হে আল্লাহ! আমাকে সেই শুভ, হেদায়াতদায়ী চেহারা এবং সেই প্রশংসিত, জ্যোতির্ময় মুখমণ্ডলের দর্শন দান করুন।’
তিনি আরও বলেন, “আপনারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, আরবাঈনের দিন-রাতে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর ফারাজ (দ্রুত আবির্ভাব)-এর জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করবেন।”
আপনার কমেন্ট