হাওজা নিউজ এজেন্সি: এ প্রেক্ষাপটে আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগ্রাসনকারী শত্রুর সম্পদ জব্দ। ইসলামবিরোধী কিছু মহল এ বিধানকে ‘লুটপাট’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করে। অথচ ইসলামী ফিকহের ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআনের এই নীতি—"অতঃপর যে তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তোমরাও তার বিরুদ্ধে ততটুকুই প্রতিকার করবে, যতটুকু সে তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে।" (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৪)
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিধান তাদের বিরুদ্ধে একটি আইনগত ব্যবস্থা, যারা মুসলমানদের সম্পদ দখল করেছে, তাদের বাস্তুচ্যুত করেছে এবং সমাজের নিরাপত্তা বিনষ্ট করেছে। ফলে এ ধরনের সম্পদ জব্দ কোনো প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নয়; বরং ‘সমপরিমাণ প্রতিকার’-এর নীতির আলোকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং ভবিষ্যৎ আগ্রাসন প্রতিরোধের একটি বৈধ উপায়।
ইসলামী আইনব্যবস্থায় জব্দকৃত সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত মালিকানায় যায় না; বরং তা বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ব্যয় নির্বাহ এবং আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করা। এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্র কর্তৃক সম্পদ জব্দ (Asset Seizure) বা লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার (Targeted Sanctions) কিছু মৌলিক সাদৃশ্য রয়েছে। তবে ইসলামে এ ব্যবস্থার সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পায়।
ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রেও নৈতিকতার সীমারেখা অতিক্রম করতে দেয় না। মহানবী (সা.) স্পষ্টভাবে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য অযোদ্ধাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করা এবং বৃক্ষ ও পরিবেশ অকারণে ধ্বংস না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব নীতিমালা বৈধ আত্মরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণহীন সহিংসতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করে। ইসলামের দৃষ্টিতে যুদ্ধজয় কখনোই মানবিক মর্যাদা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিসর্জনের বিনিময়ে অর্জিত হতে পারে না।
বর্তমান বিশ্বে বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা হচ্ছে, তখন ইসলামী ফিকহের এসব নীতিমালার পুনর্মূল্যায়ন অনেক বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়ক হতে পারে। আগ্রাসনকারীদের সম্পদ জব্দের বিধানকে ইসলামী আইনব্যবস্থা একটি সুসংগঠিত আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যার উদ্দেশ্য অবিচারের প্রতিকার এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—ব্যক্তিগত প্রতিশোধ গ্রহণ নয়।
সার্বিকভাবে, এ দৃষ্টিভঙ্গি জাতির অধিকার লঙ্ঘনের মতো সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ফিকহের যুক্তিনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও দায়িত্বশীল কাঠামোকে তুলে ধরে। এমন এক কাঠামো, যেখানে ন্যায়বিচার, প্রজ্ঞা ও নৈতিকতা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য।
আপনার কমেন্ট