বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ - ১২:৫২
ইরাক থেকে সৌদি আরবে হামলার কোনো প্রমাণ নেই

ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইরাকে তাদের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরাকের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সামরিক হামলা এবং হাশদ আল-শাবি বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরাকের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বলেন, এই মার্কিন-সৌদি হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক রীতি ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আল-নুমান ইরাকি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহণ সরকারের একচ্ছত্র ও প্রত্যক্ষ দায়িত্ব। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ এবং ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এই হামলা ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পারবে না। নানা ধরনের হামলার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তার ভাষায়, এই হামলা ছিল একতরফা, অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক রীতি, ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও ইরাকের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশীদারিত্বের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইরাক থেকে হামলার কোনো প্রমাণ নেই

এই ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, হামলার কারণে সরকার অন্যান্য দেশের সেইসব অভিযোগের তদন্তে বাধার মুখে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরাকের মাটি থেকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানো হয়নি।

তিনি জানান, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক রক্ষার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশে কিছুদিন আগে কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন কোনো প্রমাণ, তথ্য বা উপাত্ত চেয়েছিল, যা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে কথিত হামলার অভিযোগকে সমর্থন করে।

আল-নুমান বলেন, কমিটিগুলোর কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করলেও যেসব দেশ দাবি করেছিল যে তাদের ওপর ইরাকের মাটি থেকে হামলা হয়েছে, তাদের কেউই এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা

সাবাহ আল-নুমান জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এরপর সর্বাধিনায়ক সব ধরনের নিরাপত্তাগত দুর্বলতা মোকাবিলা, দায়িত্বের ক্ষেত্র পুনর্বিন্যাস এবং গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

ইরাকের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশে হামলা করতে দেব না

তিনি বলেন, প্রতিটি ইরাকির রক্ত আমাদের কাছে পবিত্র এবং এটি আমাদের লাল রেখা। বেসামরিক নাগরিক বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য-কোনো ইরাকির রক্তই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেওয়া হবে না, একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ডের ওপর কোনো বিদেশি আগ্রাসনও মেনে নেওয়া হবে না।

আন্তর্জাতিক জোটের ইরাক ত্যাগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী পূর্বনির্ধারিত সময়সূচির প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক জোটের মিশন শেষ হবে এবং সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শেষ নাগাদ তাদের ইরাক ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha