হাওজা নিউজ এজেন্সি’র আন্তর্জাতিক ডেস্ক ON4-এর বরাতে জানিয়েছে, ইসরায়েল হায়োম পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির বিভিন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত নথি পর্যালোচনা করে এমন কিছু চিঠি, আলোকচিত্র ও দলিল উদ্ধার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত কিছু দিক তুলে ধরে।
১৯৪৭ সালে ট্রুম্যানকে লেখা চিঠি
উদ্ধার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৪৭ সালে তৎকালীন প্রধান রাব্বি ইৎসহাক হালেভি হারজগ (বর্তমান ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইৎসহাক হারজগের পিতামহ) কর্তৃক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান-এর কাছে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইহুদি জনগণের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি টেলিগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিন বিভাজন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটির পূর্ববর্তী সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই ভোটে বিভাজন পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়, যা পরবর্তীতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে।
রুজভেল্টকে লেখা হাতে-লেখা চিঠি
নথিগুলোর মধ্যে ১৯৪১ সালে হারজগের লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট-এর উদ্দেশে একটি হাতে-লেখা চিঠিও রয়েছে। সেখানে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপীয় ইহুদিদের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সহায়তা কামনা করেন।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন যে, জানুয়ারির শেষ দিক থেকে তিনি একটি "তালমুদ-সংক্রান্ত মিশন"-এর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়ার আগে জায়নবাদী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে চান।
জেরুজালেমভিত্তিক গবেষণা প্রকল্প
এসব নথির অধিকাংশ জেরুজালেম সেন্টার ফর অ্যাপ্লাইড পলিসি-এর একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরে একটি প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কেন্দ্রটির দাবি, ১৯২৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সময়ের নথিপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে প্রধান রাব্বিদের প্রায় ধারাবাহিক যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়, যা এর আগে এভাবে নথিভুক্ত হয়নি।
ঐতিহাসিক নথি ও আলোকচিত্র
প্রদর্শনীতে ১৯২৪ সালে ফিলাডেলফিয়া সফরকালে প্রধান রাব্বি আব্রাহাম আইজ্যাক কুক-এর একটি বিরল আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার পাশাপাশি ইসরায়েলের পতাকাও দেখা যায়।
এ ছাড়া ১৯৪৭ সালে ট্রুম্যানকে লেখা চিঠি এবং ১৯৯২ সালে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আব্রাহাম শাপিরা ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ-এর সাক্ষাতের আলোকচিত্রও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
প্রদর্শনীটি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে উদ্বোধন করা হয়েছে। পরবর্তীতে এটি জেরুজালেম ও ওয়াশিংটনেও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গবেষকদের বক্তব্য
গবেষণা কেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠাতা হাইম জিলবারস্টেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০তম বার্ষিকী দেশটির প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে প্রধান রাব্বিদের এক শতাব্দীব্যাপী যোগাযোগের ইতিহাস পুনর্মূল্যায়নের একটি উপযুক্ত সুযোগ।
তার দাবি, এসব নথি থেকে প্রতীয়মান হয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক কেবল সাম্প্রতিক কয়েক দশকের ফল নয়; বরং জায়নবাদী আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই এর ভিত্তি গড়ে উঠতে শুরু করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রধান রাব্বিরা এই সম্পর্কের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
আপনার কমেন্ট