হাওজা নিউজ এজেন্সি: বিবাহের পর স্ত্রীর পোশাক-পরিচ্ছদে পরিবর্তন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শায়খ তারাশিয়ুন বলেন, দাম্পত্য জীবনে এ ধরনের মতবিরোধের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়; বরং আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত বিধানই হওয়া উচিত চূড়ান্ত মানদণ্ড।
প্রশ্ন: আমার স্ত্রী বিয়ের শুরুতে শরয়ি হিজাব মেনে চলার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সেই অঙ্গীকার রক্ষা করছেন না। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?
উত্তর: বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পোশাক-পরিচ্ছদ, বাহ্যিক সাজসজ্জা কিংবা জীবনযাপনের ধরন নিয়ে কিছু সমঝোতা বা শর্ত থাকতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে যদি স্ত্রী সেসব বিষয়ে আগের মতো অঙ্গীকারবদ্ধ না থাকেন, তাহলে প্রথমেই একটি মৌলিক বিষয় নির্ধারণ করা জরুরি।
সেটি হলো—মানদণ্ড কী হবে? এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হবে আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমারেখা, কোনো ব্যক্তির রুচি বা মানসিকতা নয়। অর্থাৎ আগে দেখতে হবে, স্ত্রীর বর্তমান পোশাক বা সাজসজ্জা সত্যিই শরিয়তের বিধানের পরিপন্থী কি না।
তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ এমন কঠোরতা আরোপ করে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেও নারীদের ওপর আরোপ করেননি। তাই বিষয়টি শরয়ি সীমা লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে কি না, তা আগে যাচাই করা উচিত। যদি তা না হয়, তাহলে অযথা কঠোরতা বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
একই সঙ্গে স্ত্রীকে ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে বোঝাতে হবে যে, প্রত্যাশিত বিষয়টি কোনো স্বামীর ব্যক্তিগত দাবি নয়; বরং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ ও শরিয়তের দাবি।
শায়খ তারাশিয়ুন বলেন, "আমি আপনার কাছে এমন কিছু চাইছি না, যা আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা রুচির প্রতিফলন। আমি চাই কেবল সেই বিষয়টিই, যা আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন। আর এখানেই 'গাইরাত'-এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত—নিজের খেয়াল-খুশির জন্য নয়; বরং আল্লাহর বিধান, পারিবারিক পবিত্রতা এবং দ্বীনি মূল্যবোধ রক্ষার আন্তরিক দায়িত্ববোধ।"

আপনার কমেন্ট