রবিবার ২ আগস্ট ২০২৬ - ১০:০৪
আরবাঈনের আহকাম:
পদযাত্রার পথে পাওয়া অর্থ বা জিনিসের শরয়ী বিধান

আরবাঈনের জিয়ারতের পথে বা কোনো মাওকিবে টাকা-পয়সা কিংবা কোনো জিনিস পাওয়া গেলে এবং তার মালিককে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না হলে, তা ‘মাজহূলুল মালিক’ (অজ্ঞাত মালিকানাধীন সম্পদ)-এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ ধরনের সম্পদ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কেবল শিয়া দরিদ্রকে প্রদান করা বৈধ; মাওকিবের খরচে সরাসরি তা ব্যয় করা জায়েজ নয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: আরবাঈনের পদযাত্রা উপলক্ষে প্রকাশিত ‘আরবাঈনের আহকাম’ ধারাবাহিকে শরয়ি বিধানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মুহাম্মাদী বলেন—

প্রশ্ন: জিয়ারতের পথে কোনো বস্তু বা অর্থ পাওয়া গেলে, অর্থাৎ এমন সম্পদ যার মালিক পরিচিত নয়—এ বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মাওকিবে বা পদযাত্রার পথে কিছু ইরাকি দিনার বা অন্য কোনো অর্থ পাওয়া গেল।

প্রশ্ন হলো, এই অর্থ কি মাওকিবের ব্যয় বা জিয়ারতকারীদের সেবায় ব্যবহার করা যাবে?

উত্তর: যদি এই সম্পদের মালিককে খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আপনি নিরাশ হয়ে থাকেন এবং ফিকহি দৃষ্টিতে এটি ‘মাজহূলুল মালিক’-এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে তা কেবল শিয়া দরিদ্রকে প্রদান করা বৈধ।

অতএব, এ ধরনের সম্পদ সরাসরি মাওকিবের ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে না।

তবে যদি এই সম্পদ কোনো শিয়া দরিদ্রকে দেওয়া হয় এবং তিনি নিজ ইচ্ছায় তা মাওকিবের কাজে ব্যয় করেন, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই।

অনুরূপ আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। যেমন—কোনো পোশাক, শাল, আবা, চাদর, মোবাইল ফোনের চার্জার বা ফ্ল্যাশ মেমোরি (ইউএসবি) পথে পড়ে থাকতে দেখা গেল।

এসব বস্তুর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।

যদি এগুলো ‘মাজহূলুল মালিক’-এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শরিয়ত যে ক্ষেত্রে ব্যয়ের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করা যাবে।

আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের বারবার মারিফাতসহ ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর পবিত্র রওজা জিয়ারতের তাওফিক দান করেন।

ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha