রবিবার ২ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:৪৫
আরবাঈন বৈশ্বিক সংহতির এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র

শহীদ বিপ্লবী নেতার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোটি মানুষের আরবাঈন পদযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক প্রতীক নয়; বরং এটি বৈশ্বিক অঙ্গনে সফট পাওয়ার (নরম শক্তি) সৃষ্টির এক বিশাল উৎস এবং মানবিক সংহতি ও সভ্যতা নির্মাণের একটি কার্যকর ভিত্তি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি-সমন্বয় ইনস্টিটিউট, ইসলামী সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার ধর্ম ও সংস্কৃতি সংলাপ কেন্দ্র এবং বাগদাদে ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের যৌথ উদ্যোগে ‘শহীদ নেতা ইমাম খামেনেয়ীর চিন্তাধারায় আরবাঈন: বৈশ্বিক সমীকরণে নরম শক্তির এক অনন্য প্রকাশ’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কারবালার পবিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-এর রওজার সন্নিকটে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট আলেমরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের শুরুতে আয়োজক কমিটির সম্পাদক ফারিদুন বাকেরি আরবাঈনের সভ্যতাগত সম্ভাবনা পুনর্মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো শহীদ নেতা ইমাম খামেনেয়ীর চিন্তাধারায় আরবাঈনের অবস্থান ও এর সফট পাওয়ার সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করা।

তিনি বলেন, কোটি মানুষের আরবাঈন পদযাত্রা একটি সভ্যতা-নির্মাণকারী শক্তি, যার মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তঃসীমান্ত সংহতি, জুলুমবিরোধিতা, ন্যায়বিচারভিত্তিক বক্তব্য, যুক্তিনির্ভর আধ্যাত্মিকতা, আত্মত্যাগ এবং সামাজিক ত্যাগের চেতনা। তাঁর মতে, এসব উপাদান এতটাই শক্তিশালী যে এগুলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে বৈশ্বিক সমীকরণ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির গণমাধ্যম ও নরম যুদ্ধের মোকাবিলায় একটি কার্যকর ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম।

বাকেরি এই সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব ঐশী মূল্যবোধ ও আধিপত্যবাদী প্রবণতার সংঘাত প্রত্যক্ষ করছে, তখন আরবাঈনের কৌশলগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার যুদ্ধ এবং সামরিক আগ্রাসন তথাকথিত বৈশ্বিক আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রমাণ এবং একতরফা নীতির ধারাবাহিকতার ফল।

বাকেরির ভাষায়, শহীদ বিপ্লবী নেতার চিন্তায় আরবাঈন কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি নরম শক্তি, মানবিক সংহতি, জুলুম ও অবিচারের প্রত্যাখ্যান এবং মানবসভ্যতার নির্মাণ ও সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

সম্মেলনের ফলাফল সম্পর্কে তিনি জানান, এ আয়োজনের অন্যতম বড় অর্জন হলো বিভিন্ন দেশের চিন্তাবিদদের মধ্যে মতবিনিময়। উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলো আরবাঈনবিষয়ক গবেষক ও আগ্রহীদের ব্যবহারের জন্য গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হবে।

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইরান ও অন্যান্য দেশের বিভিন্ন বক্তা বক্তব্য রাখেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আব্দুল ফাত্তাহ নাওয়াব (হজ ও জিয়ারত সংস্থায় সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি), হুজ্জাতুল ইসলাম রেজা রামাজানি (বিশ্ব আহলুল বাইত (আ.) অ্যাসেম্বলির মহাসচিব ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য), হুজ্জাতুল ইসলাম হাজ আবুল কাসেমি, মিসরের ইসলামী লেখক ও গবেষক আহমদ রাসেম আন-নাফিস, মরক্কোর ইদরিস হানি, ইরানের সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি সাইয়্যেদ মোহাম্মদ হোসেইনি, কেন্দ্রীয় আরবাঈন সদর দপ্তরের সাংস্কৃতিক উপপ্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম আহমাদি, লেবাননের মোহসেন সালেহ, ইসলামী সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার ধর্ম ও সংস্কৃতি সংলাপ কেন্দ্রের উপপ্রধান আলী আসগর আমারি, নেশনস ডায়ালগ অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাসউদ রাওয়ানখাহ এবং ইরাক, লেবানন ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত উপস্থাপন করেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha