মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২৬ - ২২:৪৪
নারিকেল বেড়িয়ায় ইমাম হোসাইন (আ.)-এর চল্লিশা অনুষ্ঠান: শোক ও আত্মশুদ্ধির মহামিলন

নারিকেল বেড়িয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, ৪ আগস্ট: কারবালার শোকগাথার ৪০তম দিনে আজ ঐতিহাসিক নারিকেল বেড়িয়া কারবালা ময়দানে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর চল্লিশা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা হায়দার আলীর বয়ান ও মাতমে উত্তীর্ণ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। হাজার হাজার আজাদারের অংশগ্রহণে এই আয়োজন শোক ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য মিলনে পরিণত হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঐতিহাসিক নারিকেল বেড়িয়া কারবালা ময়দানে আজ (মঙ্গলবার) পবিত্র চল্লিশা বা আরবাইন (চেহেল্লুম) অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে পালিত হয়েছে। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী শহীদ হওয়ার ৪০তম দিন আজ-যা ইসলামি ইতিহাসে ২০ সফর হিসেবে পরিচিত-এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য এই যে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পর বন্দী ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পরিবারের সদস্যরা সিরিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এই দিনেই কারবালার ময়দানে ফিরে এসেছিলেন। তাই এই দিনটি শুধু শোকের নয়, বরং শাহাদাতের প্রতি সম্মান জানানোর এবং ন্যায়ের পথে আত্মত্যাগের অমর বার্তা বহনকারী একটি দিন।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ইরান ও ভারতের প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা হায়দার আলীর বয়ান। 
তিনি তাঁর ভাষণে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তা কারবালার শোকগাথা স্মরণ করে সমবেত আজাদারদের প্রতি সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে অটল থাকার এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আয়োজনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদনে সমগ্র এলাকা জুড়ে একটি শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবারের মতো এবারও নারিকেল বেড়িয়া কারবালায় কাফেলা ও মাতমের আয়োজন করা হয়েছে। আজাদাররা ঐতিহ্যগত পথ ধরে মিছিলে অংশ নেন এবং ‘ইয়া হোসাইন’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

নারিকেল বেড়িয়া কারবালা কমপ্লেক্সে সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরিবেশ শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। আয়োজক কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেয়।

মাওলানার বয়ানের মধ্য দিয়ে উপস্থিত জনতা কারবালার ঘটনার গভীরতা এবং ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করেন। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলস কাজ করেছেন এবং শেষপর্যন্ত পরিবেশ অত্যন্ত আবেগঘন ও শ্রদ্ধাশীল ছিল।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha