হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদক জানিয়েছেন, আরবাঈনের সন্ধ্যায় পবিত্র হযরত মাসুমা (সা.আ.)-এর হারামের ইমাম খোমেনী (রহ.) শাবিস্তানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরবাঈনের জিয়ারতের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যারা কোনো কারণে কারবালায় উপস্থিত হতে পারেননি, কিন্তু আন্তরিক নিয়তে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে দূর থেকে আরবাঈনের জিয়ারত পাঠ করেন, তারাও এই মহান জিয়ারত ও আধ্যাত্মিক সফরের সওয়াবে শরিক হবেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ফারাহজাদ ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.)-এর বাণী—"যে কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে, সে তাদের সঙ্গেই পুনরুত্থিত হবে" (من أحب قوماً حشر معهم)—উদ্ধৃত করে বলেন, আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা কেবল অন্তরের অনুভূতি নয়; বরং তা মানুষকে তাঁদের আদর্শ ও জীবনপথ অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর অলিদের ভালোবাসে, কিয়ামতের দিন সে তাঁদের সঙ্গেই থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আরবাঈনের পদযাত্রা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লবের মহিমা ও তাঁর মহান মর্যাদার এক জীবন্ত নিদর্শন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত কোটি কোটি জিয়ারতকারীর উপস্থিতি এবং তাঁদের সেবায় মানুষের নিঃস্বার্থ আত্মনিয়োগ আশুরার সংস্কৃতির স্থায়িত্ব এবং এই আন্দোলনকে চিরঞ্জীব করে রাখার আল্লাহর প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা এমন এক চিরন্তন সত্য, যা সমগ্র সৃষ্টিজগতকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। মানুষ যত বেশি তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগ বৃদ্ধি করবে, তত বেশি এই আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বরকত ও কল্যাণ লাভ করবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, আরবাঈনের সন্ধ্যা আশুরার মর্মান্তিক ঘটনার পর আহলে বাইত (আ.)-এর ওপর নেমে আসা দুঃখ-কষ্ট ও বিপর্যয়ের স্মৃতি পুনর্জাগরণের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ। বন্দি কাফেলার কারবালায় প্রত্যাবর্তন আশুরার হৃদয়বিদারক স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করে তুলেছিল। তাই আরবাঈন হলো ইমাম আবু আব্দিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর সঙ্গে অঙ্গীকার নবায়নের, আশুরার বিপ্লব সম্পর্কে গভীরতর উপলব্ধি অর্জনের এবং হুসাইনি আন্দোলনের চিরন্তন বার্তাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান রাখার এক অনন্য সুযোগ।
আপনার কমেন্ট