হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহ আগা মুজতবা তেহরানী (রহ.) বলেন, আহলুল বাইত (আ.)-এর পবিত্র নামসমূহের গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর নাম, তাঁর স্মরণ এবং তাঁর পবিত্র মাজার জিয়ারত ঈমানের প্রতীক এবং শিয়া মাযহাবের সুস্পষ্ট পরিচয়চিহ্ন।
তিনি বলেন, যেমন আল্লাহর পবিত্র নাম দুনিয়া ও আখিরাতে মুমিনের পরিচয় ও স্লোগান, তেমনি আল্লাহর ওলিগণের (আ.) পবিত্র নামও—যাঁরা আল্লাহর সত্তা ও সন্তুষ্টির পথে সম্পূর্ণ আত্মনিবেদিত—মুমিনদের জন্য পরিচয় ও প্রতীক।
ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত একটি সুন্দর হাদিসে এসেছে: “বদরের যুদ্ধে আমাদের স্লোগান ছিল: ‘হে আল্লাহর সাহায্য! এগিয়ে এসো, এগিয়ে এসো।’ আর ইমাম হুসাইন (আ.)-এর স্লোগান ছিল: ‘ইয়া মুহাম্মাদ!’ এবং আমাদের স্লোগানও ‘ইয়া মুহাম্মাদ!’।” (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১৯, পৃ. ১৬৩)
আয়াতুল্লাহ তেহরানী (রহ.) বলেন, এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে মুমিনদের একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয় ও স্লোগান রয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহর ওলিগণের (আ.) পবিত্র নামসমূহই আমাদের ঈমানের প্রতীক ও পরিচয়চিহ্ন।
তিনি আরও বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর নাম নিজেই একটি ঐশী প্রতীক।
এরপর তিনি ইমাম মাহদী (আ.)-এর সাহাবিদের সম্পর্কে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন:
“তারা আল্লাহর ভয়ে সদা সন্ত্রস্ত থাকে, শাহাদাতের জন্য প্রার্থনা করে এবং আল্লাহর পথে নিহত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।” (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫২, পৃ. ৩০৮)
তিনি বলেন, এ হাদিসে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সাহাবিদের বহু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেখানে বলা হয়েছে:
“তাদের স্লোগান হবে: ‘ইয়া লাসারাতিল হুসাইন’ (হে হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধের আহ্বান)।”
তিনি উপসংহারে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) এমন এক মহিমান্বিত মর্যাদার অধিকারী যে শুধু তাঁর নামই নয়, তাঁর পবিত্র কবর জিয়ারতও ধর্মের প্রতীক এবং ঈমানের পরিচয়চিহ্ন।
সূত্র:
১. বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ১৬৩।
২. বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫২, পৃষ্ঠা ৩০৮।
আপনার কমেন্ট